Showing posts with label Dwijendra Lal Roy. Show all posts
Showing posts with label Dwijendra Lal Roy. Show all posts

Friday, November 19, 2010

আয় রে বসন্ত

কবিঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
আয় রে বসন্ত তোরও
কিরণ-মাখা পাখা তুলে|
নিয়ে আয় তোর কোকিল পাখির
গানের পাতা গানের ফুলে|

বলে - পড়ি প্রেমফাঁদে
তারা সব হাসে কাঁদে;
আমি শুধুই কুড়ই হাসি -
সুখনদীর উপকূলে|

জানি না ত দুখ কিসে,
চাহি না প্রেমের বিষে,
আমি বনে বেড়িয়ে বেড়াই,
নাচি গাই রে প্রাণ খুলে|

নিয়ে আয় তোর কুসুমরাশি,
তারার কিরণ, চাঁদের হাসি,
মলয়ের ঢেউ নিয়ে আয়
উড়িয়ে দে মোর এলো চুলে|

সমাপ্ত

জন্মভূমি

কবিঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
কি মাধুর্য জন্মভূমি জননি তোমার|
হেরিব কি তোমারে মা নয়নে আবার|
কতদিন আছি ছাড়ি,
তবু কি ভুলিতে পারি,
তবুও জাগিছ মাতঃ হৃদয়ে আমার|

লালত শৈশব যথা যপিত যৌবন,
ভুলিতে যে প্রিয় দৃশ্য চাহে কি গো মন,
প্রতি তরুলতা সনে
মিশ্রিত জড়িত মনে,
স্মৃতিচোখে প্রিয় ছবি হেরি বার বার|

তোমা বিনা অন্য কারে মা বলে ডাকিতে,
কখন বাসনা মাতঃ নাহি হয় চিতে;
অভূষণ শোভারাশি,
মাতঃ তব ভালবাসি;
চাই না সুরম্য স্থান নানা অলঙ্কার|
স্বর্গীয় মাধুর্যময় স্বদেশ আমার|

সমাপ্ত

ক'রো না অপমান

কবিঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
যেই স্থানে আজ কর বিচরণ,
পবিত্র সে দেশ পূণ্যময় স্থান;
ছিল এ একদা দেব লিলাভূমি,
করোনা, করোনা তার অপমান!

আজিও বহিছে গঙ্গা, গোদাবরী
যমুনা, নর্মদা, সিন্ধু বেগবান;
অই আরাবলী, তুঙ্গ হিমগিরি;
করোনা, করোনা তার অপমান|

নাই কি চিতোর, নাই কি দেওয়ার,
পূণ্য হলদিঘাট আজো বর্তমান|
নাই উজ্জয়িনী, অযোধ্যা, হস্তিনা?
করোনা, করোনা তার অপমান|

এ অমরাবতী, প্রতি পদে যার,
দলিত চরণে ভারত-সন্তান;
দেবের পদাঙ্ক আজিও অঙ্কিত,
করোনা, করোনা তার অপমান|

আজো বুদ্ধ-আত্মা, প্রতাপের ছায়া,
ভ্রমিছে হেথায়-হও সাবধান!
আদেশিছে শুন অভ্রান্ত ভাষায়,
করোনা, করোনা তার অপমান|

সমাপ্ত

ধনধান্য পুষ্পভরা

কবিঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ধন্যধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা;
তাহার মাঝে আছে দেশ এক-সকল দেশের সেরা;
ওসে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি তিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে-আমার জন্মভূমি।

চন্দ্র-সূর্য গ্রহ তারা, কোথায় উজল এমন ধারা!
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে!
তারা পাখির ডাকে ঘুমিয়ে, ওঠে পাখির ডাকে জেগে,
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে-আমার জন্মভূমি।

এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধুম্র পাহাড়;
কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে।
এমন ধানের ওপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে-আমার জন্মভূমি।

পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী; কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে-
তারা ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে-আমার জন্মভূমি।

ভায়ের মায়ের এমন স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ?
ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি,
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি-
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে-আমার জন্মভূমি।

সমাপ্ত

নন্দলাল

কবিঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ-
স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন।
সকলে বলিল,‘আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?’
নন্দ বলিল,‘বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?’
তখন সকলে বলিল-‘বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।’

নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা!
সকলে বলিল,‘যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা’
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক’
তখন সকলে বলিল-‘হাঁ হাঁ হাঁ,তা বটে,তা বটে, ঠিক।’

নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির,
গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির;
পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ;
খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল,
তখন সকলে বলিল-‘বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।’

নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি;
সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি;
নন্দ বলিল,‘আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই,
কি হবে দেশের, গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই?
বলো কি’ বিঘৎ নাকে দিব খত যা বলো করিব তাহা।’
তখন সকলে বলিল–‘বাহবা বাহবা বাহবা বাহা!’

নন্দ বাড়ির হ’ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে ‘কলিসন’ হয়;
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল
সকলে বলিল-‘ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।’

সমাপ্ত

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কবিতাসমূহ –


আয় রে বসন্ত
ক'রো না অপমান
জন্মভূমি
ধনধান্য পুষ্পভরা
নন্দলাল