Showing posts with label আধুনিক বাংলা গান. Show all posts
Showing posts with label আধুনিক বাংলা গান. Show all posts

Thursday, January 27, 2011

দীপ ছিলো শিখা ছিলো

শিল্পীঃ মান্না দে

দীপ ছিলো শিখা ছিলো
শুধু তুমি ছিলে না বলে
আলো জ্বললো না
ভাষা ছিলো কথা ছিলো
কাছে ডাকলে না বলে মন
কথা বললো না
দীপ ছিলো শিখা ছিল।

ঝর্না কেমনে হয় নদী-
ঝর্না কেমনে হয় নদী
সাগর না ডাকে কভু যদি
তাই যেতে যেতে থামলো সে
বয়ে চললো না
কাছে ডাকলেনা বলে মন
কথা বললো না
দীপ ছিলো শিখা ছিলো।

বুক ভরা আশা নিয়ে-মন আমার
শুধু শুধু কাছে এলো
পারলো না দিতে কিছু উপহার
যে মালার ফুল গেছে ঝরে-
যে মালার ফুল গেছে ঝরে
রেখেছি সে ফুল বুকে করে
তাই এই ফুল রয়ে গেলো
কেউ দললো না
কাছে ডাকলে না বলে মন
কথা বললো না
দীপ ছিলো শিখা ছিলো
শুধু তুমি ছিলে না বলে
আলো জ্বললো না
ভাষা ছিলো কথা ছিলো
কাছে ডাকলে না বলে মন
কথা বললো না
দীপ ছিলো শিখা ছিলো।

সমাপ্ত


যদি কাগজে লেখ নাম

শিল্পীঃ মান্না দে

যদি কাগজে লেখ নাম, কাগজ ছিঁড়ে যাবে
পাথরে লেখ নাম, পাথর ক্ষয়ে যাবে
হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে
হু…যদি কাগজে লেখ নাম।

হৃদয় আছে যার-সেই তো ভালোবাসে
প্রতিটি মানুষেরই-জীবনে প্রেম আসে,
হৃদয় আছে যার-সেই তো ভালোবাসে
প্রতিটি মানুষেরই-জীবনে প্রেম আসে।
কেউ কি ভেবেছিল-শ্যাম কে ভালোবেসে
রাধার ভালোবাসা-কাহিনী হয়ে যাবে।
হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে
হু…যদি কাগজে লেখ নাম

গভীর হয় গো যেখানে ভালোবাসা
মুখে তো সেখানে থাকে না কোনো ভাষা।
গভীর হয় গো যেখানে ভালোবাসা
মুখে তো সেখানে থাকে না কোনো ভাষা।
চোখেরও আড়ালে মাটির নিচে ওই
কোন দুখ চিরদিনই নিরবে বয়ে যাবে।
হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে
হু…যদি কাগজে লেখ নাম, কাগজ ছিঁড়ে যাবে
পাথরে লেখ নাম, পাথর ক্ষয়ে যাবে
হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে
হু যদি কাগজে লেখ নাম।

সমাপ্ত


সুন্দরীগো দোহাই দোহাই

শিল্পীঃ মান্না দে

সুন্দরীগো দোহাই দোহাই
মান করোনা
আজ নিশিথে কাছে থাকো
না বলো না
সুন্দরীগো দোহাই দোহাই
মান করোনা।

অনেক শিখা পুড়ে তবে
এমন প্রদীপ জ্বলে-
অনেক শিখা পুড়ে তবে
এমন প্রদীপ জ্বলে,
অনেক কথার মরণ হলে
হৃদয় কথা বলে
না না
চন্দ্রহারে কাজলধোঁয়া
জল ফেলোনা
সুন্দরীগো দোহাই দোহাই
মান করোনা
আজ নিশিথে কাছে থাকো
না বলো না
সুন্দরীগো দোহাই দোহাই
মান করোনা।

একেই তো এই জীবন ভরে
কাজের বোঝাই জমে
একেই তো এই জীবন ভরে
কাজের বোঝাই জমে
আজ পৃথিবীর ভালোবাসার
সময় গেছে কমে
না না
একটু ফাগুন আগুন দিয়ে
না জ্বেলোনা
সুন্দরীগো দোহাই দোহাই
মান করোনা
আজ নিশিথে কাছে থাকো
না বলো না
সুন্দরীগো দোহাই দোহাই
মান করোনা।

সমাপ্ত


সবাই তো সুখী হতে চায়

শিল্পীঃ মান্না দে

সবাই তো সুখী হতে চায়-
সবাই তো সুখী হতে চায়
তবু কেউ সুখী হয়, কেউ হয়না।
জানিনা বলে যা লোকে সত্যি কিনা-
জানিনা বলে যা লোকে সত্যি কিনা
কপালে সবার নাকি সুখ সয়না।
সবাই তো সুখী হতে চায়।

আশায় আশায় তবু এই আমি থাকি
যদি আসে কোনোদিন সেই সুখপাখি-
আশায় আশায় তবু এই আমি থাকি
যদি আসে কোনোদিন সেই সুখপাখি
এই চেয়ে থাকা আর প্রাণে সয় না।
সবাই তো সুখী হতে চায়।

ভালোবেসে সুখী হতে বলো কে না চায়?
রাধা সুখী হয়েছিল এই শ্যাম রায়।
আমিও রাধার মতো ভালোবেসে যাবো
হয় কিছু পাবো নয় সবই হারাবো
এই চেয়ে থাকা আর প্রাণে সয় না।
সবাই তো সুখী হতে চায়
তবু কেউ সুখী হয়, কেউ হয়না।
জানিনা বলে যা লোকে সত্যি কিনা
কপালে সবার নাকি সুখ সয় না।
সবাই তো সুখী হতে চায়
তবু কেউ সুখী হয়, কেউ হয়না।

সমাপ্ত


তুমি নিজের মুখেই বললে যেদিন

শিল্পীঃ মান্না দে

তুমি নিজের মুখেই বললে যেদিন
সবই তোমার অভিনয়
সত্যি কোনো কিছু নয়
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে-
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে
আমি মানুষ চেয়েই করেছিলাম ভুল-
আমি মানুষ চেয়েই করেছিলাম ভুল
তুমি ছিলে শুধু রঙ করা পুতুল
আমার ভুল ভাঙাতে ধূলো হয়ে
পড়লে যে তাই ভেঙে
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে-
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে

আনন্দ আর নেই গো যেখানে
শুধু মুখের হাসি সাজিয়ে রেখে
কাজ কি সেখানে
আনন্দ আর নেই গো যেখানে
শুধু মুখের হাসি সাজিয়ে রেখে
কাজ কি সেখানে
এই বুকের জ্বালা বুকেই গোপন করে,

এই বুকের জ্বালা বুকেই গোপন করে
বলো লাভ কি হবে নকল মালা পড়ে
যখন সাজানো ওই মনের উপর
পর্দা দিলে টেনে
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে
তুমি নিজের মুখেই বললে যেদিন
সবই তোমার অভিনয়
সত্যি কোনো কিছু নয়
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে-
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে।

সমাপ্ত


ক’ফোটা চোখের জল-ফেলেছো

শিল্পীঃ মান্না দে

ক’ফোটা চোখের জল-ফেলেছো,
যে তুমি ভালোবাসবে-
ক’ফোটা চোখের জল-ফেলেছো,
যে তুমি ভালোবাসবে
পথের কাঁটায় পায়ে রক্ত না ঝড়ালে
কি করে এখানে তুমি আসবে
ক’ফোটা চোখের জল-ফেলেছো,
যে তুমি ভালোবাসবে।

কটা রাত কাটিয়েছো জেগে
স্বপ্নের মিথ্যে আবেগে-
কটা রাত কাটিয়েছো জেগে
স্বপ্নের মিথ্যে আবেগে
কি এমন দুঃখকে সয়েছো-যে তুমি
এত সহজেই হাসবে
পথের কাঁটায় পায়ে রক্ত না ঝড়ালে
কি করে এখানে তুমি আসবে
ক’ফোটা চোখের জল-ফেলেছো
যে তুমি ভালোবাসবে।

হাজার কাজের ভিড়ে সময় তো হয়নি তোমার
শোনোনিতো কান পেতে অস্ফুট কোনো কথা তার-
হাজার কাজের ভিড়ে সময় তো হয়নি তোমার
শোনোনিতো কান পেতে অস্ফুট কোনো কথা তার
আজ কেন হাহাকার করো
সে কথায় ইতিহাস গড়ো
কি সুখ জলাঞ্জলি দিয়েছো-যে তুমি
সুখের সাগরে ভাসবে
পথের কাঁটায় পায়ে রক্ত না ঝড়ালে
কি করে এখানে তুমি আসবে
ক’ফোটা চোখের জল ফেলেছো
যে তুমি ভালোবাসবে।

সমাপ্ত


আমি ফুল না হয়ে কাঁটা

শিল্পীঃ মান্না দে

আমি ফুল না হয়ে
কাঁটা হয়েই বেশ ছিলাম-
ও আমি ফুল না হয়ে
কাঁটা হয়েই বেশ ছিলাম
জানিনা কোন ভুলে
তোমার আঁচলে জড়ালাম,
আমি সুখ না হয়ে
দুঃখ হয়েই বেশ ছিলাম
কেন যে তোমার বুকের
দীর্ঘশ্বাস ঝরালাম।

সকলেই অঝর ধারার
বৃষ্টি কি আর হয়
কেউ কেউ আগুন হয়েই
সারাজীবন রয়,
আমি অনেক দূরের
আগুন হয়েই বেশ ছিলাম-
ও আমি অনেক দূরের
আগুন হয়েই বেশ ছিলাম
কেন যে কাছে এসে
তোমার মনে ছড়ালাম
আমি ফুল না হয়ে
কাঁটা হয়েই বেশ ছিলাম।

চাইলেই মনের মত
মন কি সবাই পায়
জীবনে অনেক কিছুই
শূণ্য রয়ে যায়
আমি আমার ব্যথার
বোঝা নিয়েই বেশ ছিলাম-
ও আমি আমার ব্যথার
বোঝা নিয়েই বেশ ছিলাম
সম ব্যথার আশায়
কেন যে হাত বাড়ালাম
আমি সুখ না হয়ে
দুঃখ হয়েই বেশ ছিলাম
ও আমি ফুল না হয়ে
কাঁটা হয়েই বেশ ছিলাম।

সমাপ্ত


এই কূলে আমি আর

শিল্পীঃ মান্না দে

এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়-
এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়
তবুও তোমার আমি পাই ওগো সাড়া
দুটি পাখী দুটি কূলে গান যেন গায়
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়
এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়।

যুগে যুগে তুমি মোরে-বেঁধেছিলে ফুলদোরে-
যুগে যুগে তুমি মোরে-বেঁধেছিলে ফুলদোরে
তাই আজ বসে থাকি আশায় আশায়
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়
এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়।

দূরে আছো তবু কথা হয় বিনিময়
জানো না তো কি নিবিড় এই পরিচয়-

দূরে আছো তবু কথা হয় বিনিময়
জানো না তো কি নিবিড় এই পরিচয়
দেখি আমি চোখ মেলে-মনেরও মাধুরী ঢেলে-
দেখি আমি চোখ মেলে-মনেরও মাধুরী ঢেলে
তুমি যে গো ভেসে এলে প্রাণের খেয়ায়
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়
এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়
মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়।

সমাপ্ত


খুব জানতে ইচ্ছে করে

শিল্পীঃ মান্না দে

খুব জানতে ইচ্ছে করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে
তুমি কি সেই আগের মতই আছো
তুমি কি সেই আগের মতই আছো
নাকি অনেকখানি বদলে গেছ
খুব জানতে ইচ্ছে করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে।

এখনো কি প্রথম সকাল হলে
স্নানটি সেরে পূজার ফুল তুলে
পূজার ছলে আমারই কথা ভাবো-বসে ঠাকুর ঘরে।
জানতে ইচ্ছে করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে।

এখনো কি সন্ধ্যা বেলা
আমার বাড়ি ফেরার সময় পেরিয়ে গেলে
অনেক অভিমানে চোখ দুটো কি জলে ভরে।
জানতে ইচ্ছে করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে।

এখনো কি রাত নিঝুম হলে
শরৎ কাহিনী পাশে খোলা পরে থাকে
ব্যাকুল পিয়াসে আমারই পিয়াসে-অন্তর কেঁদে মরে।
জানতে ইচ্ছে করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে।
তুমি কি সেই আগের মতই আছো
তুমি কি সেই আগের মতই আছো
নাকি অনেকখানি বদলে গেছ
জানতে ইচ্ছে করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে।

সমাপ্ত


কফি হাউসের সেই আড্ডাটা

শিল্পীঃ মান্না দে

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
আজ আর নেই-আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল-সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই।
লা লা লাল লা লা্ল লাল লাল লা লা লা লা লা লা লা…

নিখিলেশ প্যারিসে, মঈদুল ঢাকাতে
নেই তারা আজ কোন খবরে
গ্র্যাণ্ডের গীটারিস্ট গোয়ানীস ডিসুজা
ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে
কাকে যেন ভালোবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে
পাগলা গারদে আছে রমা রায়
অমলটা ধুঁকছে দুরন্ত ক্যানসারে
জীবন করে নি তাকে ক্ষমা হায়,
কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
আজ আর নেই-আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল-সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই।

সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে
শুনেছিতো লাখ্ পতি স্বামী তার
হীরে আর জহরতে আগাগোড়া মোড়া সে
গাড়ীবাড়ী সবকিছু দামী তার
আর্ট কলেজের ছেলে নিখিলেশ সান্যাল
বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকতো
আর চোখ ভরা কথা নিয়ে-নির্বাক শ্রোতা হয়ে
ডিসুজাটা বসে শুধু থাকতো,
কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
আজ আর নেই-আজ আর নেই।
লা লা লাল লা লা্ল লাল লাল লা লা লা লা লা লা লা…

একটা টেবিলে সেই তিন চার ঘন্টা
চারমিনার ঠোঁটে জ্বলতো
কখনো বিষ্ণু দে কখনো যামিনী রায়
এই নিয়ে তর্কটা চলতো
রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক
কাজ সেরে ঠিক এসে জুটতাম
চারটেতে শুরু করে জমিয়ে আড্ডা মেরে
সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম,
কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
আজ আর নেই-আজ আর নেই।
লা লা লাল লা লা্ল লাল লাল লা লা লা লা লা লা লা…

কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ
মুছে যাবে অমলের নামটা
একটা কবিতা তার হোল না কোথাও ছাপা
পেলনা সে প্রতিভার দামটা
অফিসের সোশালে ‘ম্যামেচার’ নাটকে
রমা রায় অভিনয় করতো
কাগজের রিপোর্টার মঈদুল এসে রোজ
কি লিখেছে তাই শুধু পড়তো,
কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
আজ আর নেই-আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল-সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই।

সেই সাত জন নেই আজ-টেবিলটা তবু আছে
সাতটা পেয়ালা অজোও খালি নেই
একই সে বাগানে আজ-এসেছে নতুন কুঁড়ি
শুধু সেই সেদিনের মালী নেই
কত স্বপনের রোদ ওঠে এই কফি হাউসে
কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়
কত জন এল গেলো-কতজনই আসবে
কফি হাউসটা শুধু থেকে যায়
কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
আজ আর নেই-আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল-সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই।
হু হু হু লা লা লাল লা লা্ল লাল লাল লা লা লা লা লা লা লা…
কোথায় হারিয়ে গেল-সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই।

সমাপ্ত