Showing posts with label প্রেমের কবিতা. Show all posts
Showing posts with label প্রেমের কবিতা. Show all posts

Sunday, November 14, 2010

এখনো তুমি

কবিঃ তসলিমা নাসরিন
[ রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কে উদ্দেশ্য করে লেখা কবিতা ]

ভালোবাসা বলতে এখনো তোমাকেই বুঝি
ঘৃণা বলতে এখনো তোমাকে
সংসার বলতে এখনো তোমাকে বুঝি
সুখ বলতেও আমি এখনো তোমাকে
কত টুকু পশু আছে, কতটা হিংস্রতা
কতটা দানব থাকে একজন মানুষের দেহে
তোমাকে আমল ছুঁয়ে যেনে, আমি সমস্ত জেনেছি
তোমার তকের নিচে কত টুকু ক্লেদ
কতটা দ্রুদতা
চোখের তারায় তুমি কতটা রুখ পাপ
শরীলের ঘ্রাণ শুকে শুকে আমি সকল বুঝেছি
স্বপ্ন বলতে এখনো তোমাকেই বুঝি
কষ্ট বলতে এখনো তোমাকে
চুম্বনে তোমার লালা থেকে চুষে নেই
সংক্রামক ব্যাধি

তোমাকে আরোগ্য করি
তোমাকে শুশ্রূষা করি
তোমাকে নির্মাণ করি আমার বিনাশে
জীবন বলতে এখনো তোমাকে বুঝি
মৃত্যু বলতেও আমি এখনো তোমাকে।

সমাপ্ত

Thursday, November 4, 2010

প্রেম-প্রতিমা

কবিঃ কায়কোবাদ
( ১ )
আমি দেখিতাম শুধু তারে!
মধুর চাঁদনীময়ী - মধুরা যামিনী,
শশধর হাসিত অম্বরে!
সে থখন ধীরে ধীরে, - এসে এই নদীতীরে,
গাইত প্রেমের গীত মাতায়ে ধরণী ;
তাহার মধুর স্বরে - মুকুতা পড়িত ঝ'রে
নীরবে বহিয়া যেত আকুলা তটিনী!
আমি দেখিতাম শুধু তারে!

( ২ )
সে আমার সুখে দুঃখে প্রাণের সঙ্গিনী!
তারি তরে বেঁচে আছি ভবে!
জীবন-জলধি-পাড়ে, - আর কি পাইব তারে
এক দুই করে আমি মাসদিন গণি!
সে চাঁদ ওঠে না আর, - ঢালে না সে সুধা ধার,
আমি তার সে আমার - শুধু এই জানি!
সে আসিবে কবে!

( ৩ )
তাহারি চরণ চুমি বনকমলিনী
ফুটিয়া উঠিত থরে থরে!
সে নিতি উন্মুক্ত কেশে, - ফুলরাণী-বেশে এসে
দাঁড়াইয়া এই সরঃতীরে
গাইত প্রেমের গান, - আকুল করিয়া প্রাণ
বিহগ শিখিত সেই প্রেমের রাগিনী!
আমি দেখিতাম শুধু তারে!

( ৪ )
সে সদা কুসুম-সাজে এলাইয়া বেণী
আমার এ প্রাণ নিত কেড়ে!
চারিধারে পুষ্প-তরু, - বায়ু ব'ত ঝুরু ঝুরু
কোকিল তুলিত কত কুহু কুহু ধ্বনি!
হেরি তার রূপরাশি, - হেরি তার প্রেমহাসি,
পাপিয়া আকুল প্রাণে হ'ত পাগলিনী!
আমি দেখিতাম শুধু তারে!

( ৫ )
তাহারি রূপের ছটা উজলি ধরণী
ঝরিয়া পড়িত চারি ধারে!
আকাশে চন্দ্রমা-তারা, - তারি প্রেমে মাতোয়ারা
নয়নে খেলিত তার চঞ্চলা দামিনী!
বুকেতে অমৃত-খনি - কণ্ঠে সুধা-নির্ঝরণী
সৌন্দর্য-সরসে সে যে ফুটন্ত নলিনী!
আমি দেখিতাম শুধু তারে!

সমাপ্ত

বিদায়ের শেষ চুম্বন

কবিঃ কায়কোবাদ
( ১ )
আবার, আবার সেই বিদায়-চুম্বন,
আলেয়ার আলো প্রায়,
আঁধারে ডুবায়ে যায়,
স্মৃতিটি রাখিয়া হায় করিতে দাহন!

( ২ )
বিদায়-চুম্বন,
উভয়েরি প্রাণে করে অগ্নি বরিষণ,
উভয়ে উভয় তরে,
আকুলি ব্যাকুলি করে,
উভয়েরি হৃদিস্তরে যাতনা-ভীষণ!
এমনি কঠোর হায় বিদায়-চুম্বন!

( ৩ )
প্রণয়ের মধুমাখা প্রথম চুম্বনে,
শুধু সুখ সমুল্লাস ;
এতে ঘন হাহুতাশ,
কেবলি যে বহে হায় উভয়েরি মনে!

( ৪ )
সে চুম্বনে এ চুম্বনে কি দিব তুলনা,
সে স্বর্গের পরিমল,
এ মর্তের হলাহল,
তাহাতে উল্লাস, এতে কেবলি যাতনা!

( ৫ )
সে যে শরতের স্নিগ্ধ সুধাংশু-কিরণ,
মুহুর্তে মাতায় ধরা,
এ যে শুধু ক্লেশ ভরা
বৈশাখের ঘন ঘোর ঝটিকা ভীষণ!

সমাপ্ত

প্রণয়ের প্রথম চুম্বন

কবিঃ কায়কোবাদ
(১)

মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন!
যবে তুমি মুক্ত কেশে
ফুলরাণী বেশে এসে,
করেছিলে মোরে প্রিয় স্নেহ-আলিঙ্গন!
মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন?

(২)

প্রথম চুম্বন!
মানব জীবনে আহা শান্তি-প্রস্রবণ!
কত প্রেম কত আশা,
কত স্নেহ ভালবাসা,
বিরাজে তাহায়, সে যে অপার্থিব ধন!
মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন!

(৩)

হায় সে চুম্বনে
কত সুখ দুঃখে কত অশ্রু বরিষণ!
কত হাসি, কত ব্যথা,
আকুলতা, ব্যাকুলতা,
প্রাণে প্রাণে কত কথা, কত সম্ভাষণ!
মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন!

(৪)

সে চুম্বন, আলিঙ্গন, প্রেম-সম্ভাষণ,
অতৃপ্ত হৃদয় মূলে
ভীষণ ঝটিকা তুলে,
উন্মত্ততা, মাদকতা ভরা অনুক্ষণ,
মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন!

সমাপ্ত

Monday, November 1, 2010

অপরূপ বাগান

কবিঃ আবুল হাসান
চলে গেলে-তবু কিছু থাকবে আমার: আমি রেখে যাবো
আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।
জল নেমে গেলে ডাঙ্গা ধরে রাখে খড়কুটো, শালুকের ফুল:
নদীর প্রবাহপলি, হয়তো জন্মের বীজ, অলঙ্কার-অনড় শামুক!

তুমি নেমে গেলে এই বক্ষতলে সমস্ত কি সত্যিই ফুরোবে?
মুখের ভিতরে এই মলিন দাঁতের পংক্তি-তা হলে এচোখ
মাথার খুলির নীচে নরোম নির্জন এক অবিনাশী ফুল:
আমার আঙ্গুলগুলি, আমার আকাঙ্ক্ষাগুলি, অভিলাষগুলি?

জানি কিছু চিরকাল ভাস্বর উজ্জ্বল থাকে, চির অমলিন!
তুমি চলে গেলে তবু থাকবে আমার তুমি, চিরায়ত তুমি!

অনুপস্থিতি হবে আমার একলা ঘর, আমার বসতি!

ফিরে যাবো সংগোপনে, জানবে না, চিনবে না কেউ;
উঠানে জন্মাবো কিছু হাহাকার, অনিদ্রার গান-

আর লোকে দেখে ভাববে-বিরহবাগান ঐ উঠানে তো বেশ মানিয়েছে!

সমাপ্ত

Tuesday, October 12, 2010

যৌবন-চাঞ্চল্য

কবিঃ যতীন্দ্র মোহন বাগচী
ভুটিয়া যুবতি চলে পথ ;
আকাশ কালিমামাখা কুয়াশায় দিক ঢাকা|
চারিধারে কেবলই পর্বত;
যুবতী একেলা চলে পথ|
এদিক-ওদিক চায় গুনগুনি গান গায়,
কভু বা চমকি চায় ফিরে;
গতিতে ঝরে আনন্দ উথলে নৃত্যের ছন্দ

আঁকাবাঁকা গিরিপথ ঘিরে |
ভুটিয়া যুবতি চলে পথ |

টসটসে রসে ভরপুর-
আপেলের মত মুখ আপেলের মত বুক
পরিপূর্ণ প্রবল প্রচুর;
যৌবনের রসে ভরপুর |
মেঘ ডাকে কড়-কড় বুঝিবা আসিবে ঝড়,
একটু নাহিকো ডর তাতে;

উঘারি বুকের বাস, পুরায় বিচিত্র আশ
উরস পরশি নিজ হাতে!

অজানা ব্যাথায় সুমধুর-
সেথা বুঝি করে গুরুগুরু!
যুবতি একেলা পথ চলে;
পাশের পলাশ-বনে কেন চায় অকারণে?
আবেশে চরণ দুটি টলে-
পায়ে-পায়ে বাধিয়া উপলে!

আপনার মনে যায় আপনার মনে গায়,
তবু কেন আনপানে টান?
করিতে রসের সৃষ্টি চাই কি দশের দৃষ্টি?
স্বরূপ জানেন ভগবান!

সহজে নাচিয়া যেবা চলে
একাকিনী ঘন বনতলে-
জানি নাকো তারো কী ব্যাথায়
আঁখিজলে কাজল ভিজায়!

সমাপ্ত

Wednesday, June 30, 2010

গোপন-প্রিয়া

কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম
পাইনি ব’লে আজো তোমায় বাসছি ভালো, রাণি,
মধ্যে সাগর, এ-পার ওপার করছি কানাকানি-
আমি এ-পার, তুমি ও-পার,
মধ্যে কাঁদে বাধার পাথার
ও-পার হ’তে ছায়া-তরু দাও তুমি হাত্‌ছানি,
আমি মরু, পাইনে তোমার ছায়ার ছোঁওয়াখানি।

নাম-শোনা দুই বন্ধু মোরা, হয়নি পরিচয়!
আমার বুকে কাঁদছে আশা, তোমার বুকে ভয়!
এই-পারী ঢেউ বাদল-বায়ে
আছড়ে পড়ে তোমার পায়ে,
আমার ঢেউ-এর দোলায় তোমার ক’রলো না কূল ক্ষয়,
কূল ভেঙেছে আমার ধারে-তোমার ধারে নয়!

চেনার বন্ধু, পেলাম না ক’ জানার অবসর।
গানের পাখী ব’সেছিলাম দু’দিন শাখার’ পর।
গান ফুরালো যাব যবে
গানের কথাই মনে রবে,
পাখী তখন থাকবো না ক’-থাকবে পাখীর ।

সমাপ্ত

Saturday, June 19, 2010

অ-নামিকা

কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম
তোমারে বন্দনা করি
স্বপ্ন-সহচরী
লো আমার অনাগত প্রিয়া,
আমার পাওয়ার বুকে না-পাওয়ার তৃষ্ণা-জাগানিয়া!
তোমারে বন্দনা করি -
হে আমার মানস-রঙ্গিণী,
অনন্ত-যৌবনা বালা, চিরন্তন বাসনা-সঙ্গিনী!
তোমারে বন্দনা করি -
নাম-নাহি-জানা ওগো আজো-নাহি-আসা!
আমার বন্দনা লহ, লহ ভালবাসা -
গোপণ-চারিণী মোর, লো চির-প্রেয়সী!
সৃষ্টি-দিন হ’তে কাঁদ’ বাসনার অন্তরালে বসি’
ধরা নাহি দিলে দেহে।
তোমার কল্যাণ-দীপ জ্বলিলে না
দীপ-নেভা বেড়া-দেওয়া গেহে।
অসীমা! এলে না তুমি সীমারেখা-পারে!
স্বপনে পাইয়া তোমা’ স্বপনে হারাই বারে বারে
অরুপা লো! রহি হ’য়ে এলে মনে,
সতী হ’য়ে এলে না ক’ ঘরে।
প্রিয় হ’য়ে এলে প্রেমে,
বধূ হয়ে এলে না অধরে!
দ্রাক্ষা-বুকে রহিলে গোপনে তুমি শিরীন্‌ শরাব,
পেয়ালায় নাহি এলে!
‘উতারো নেকার’ -
হাঁকে মোর দুরন্ত কামনা!
সুদুরিকা! দূরে থাক’-ভালোবাসা-নিকটে এসো না।

তুমি নহ নিভে যাওয়া আলো, নহ শিখা।
তুমি মরীচিকা,
তুমি জ্যোতি।
জন্ম-জন্মান্তর ধরি’ লোকে-লোকান্তরে তোমা’ করেছি আরতি,
বারে বারে একই জন্মে শতবার করি!
যেখানে দেখেছি রূপ,-করেছি বন্দনা প্রিয়া তোমারেই স্মরি’।
রূপে রূপে, অপরূপা, খুঁজেছি তোমায়,
পবনের যবনিকা যত তুলি তত বেড়ে যায়!
বিরহের কান্না-ধোওয়া তৃপ্ত হিয়া ভরি’
বারে বারে উদিয়াছ ইন্দ্রধনুসমা,
হাওয়া-পরী
প্রিয় মনোরমা!
ধরিতে গিয়োছি-তুমি মিলায়েছ দূর দিগ্বলয়ে
ব্যথা-দেওয়া রাণী মোর, এলে না ক’ কথা কওয়া হ’য়ে।

চির-দূরে থাকা ওগো চির-নাহি-আসা!
তোমারে দেহের তীরে পাবার দুরাশা
গ্রহ হ’তে গ্রহান্তরে ল’য়ে যায় মোরে!
বাসনার বিপুল আগ্রহে -
জন্ম লভি লোকে-লোকান্তরে!
উদ্বেলিত বুকে মোর অতৃপ্ত যৌবন-ক্ষুধা
উদগ্র কামনা,
জন্ম তাই লভি বারে বারে,
না-পাওয়ার করি আরাধনা!
যা-কিছু সুন্দর হেরি’ ক’রেছি চুম্বন,
যা-কিছু চুম্বন দিয়া ক’রেছি সুন্দর -
সে-সবার মাঝে যেন তব হরষণ
অনুভব করিয়াছি!-ছুঁয়েছি অধর
তিলোত্তমা, তিলে তিলে!
তোমারে যে করেছি চুম্বন
প্রতি তরুণীর ঠোঁটে প্রকাশ গোপন।

যে কেহ প্রিয়ারে তার চুম্বিয়াছে ঘুম-ভাঙা রাতে,
রাত্রি-জাগা তন্দ্রা-লাগা ঘুম-পাওয়া প্রাতে,
সকলের সাথে আমি চুমিয়াছি তোমা’
সকলের ঠোঁটে যেন, হে নিখিল-প্রিয়া প্রিয়তমা!
তরু, লতা, পশু, পাখী, সকলের কামনার সাথে
আমার কামনা জাগে,-আমি রমি বিশ্ব-কামনাতে!
বঞ্চিত যাহারা প্রেমে, ভুঞ্জে যারা রতি -
সকলের মাঝে আমি-সকলের প্রেমে মোর গতি!
যে-দিন স্রষ্টার বুকে জেগেছিল আদি সৃষ্টি-কাম,
সেই দিন স্রষ্টা সাথে তুমি এলে, আমি আসিলাম।
আমি কাম, তুমি হ’লে রতি,
তরুণ-তরুণী বুকে নিত্য তাই আমাদের অপরূপ গতি!
কী যে তুমি, কী যে নহ, কত ভাবি-কত দিকে চাই!
নামে নামে, অ-নামিকা, তোমারে কি খুঁজিনু বৃথাই?
বৃথাই বাসিনু ভালো? বৃথা সবে ভালোবাসে মোরে?
তুমি ভেবে যারে বুকে চেপে ধরি সে-ই যায় স’রে।
কেন হেন হয়, হায়, কেন লয় মনে -
যারে ভালো বাসিলাম, তারো চেয়ে ভালো কেহ
বাসিছে গোপনে।

সে বুঝি সুন্দরতর-আরো আরো মধু!
আমারি বধূর বুকে হাসো তুমি হ’য়ে নববধূ।
বুকে যারে পাই, হায়,
তারি বুকে তাহারি শয্যায়
নাহি-পাওয়া হ’য়ে তুমি কাঁদ একাকিনী,
ওগো মোর প্রিয়ার সতিনী।
বারে বারে পাইলাম-বারে বারে মন যেন কহে -
নহে, এ সে নহে!
কুহেলিকা! কোথা তুমি? দেখা পাব কবে?
জন্মেছিলে জন্মিয়াছ কিম্বা জন্ম লবে?
কথা কও, কও কথা প্রিয়া,
হে আমার যুগে-যুগে না-পাওয়ার তৃষ্ণা-জাগানিয়া!

কহিবে না কথা তুমি! আজ মনে হয়,
প্রেম সত্য চিরন্তন, প্রেমের পাত্র সে বুঝি চিরন্তন নয়।
জন্ম যার কামনার বীজে
কামনারই মাঝে সে যে বেড়ে যায় কল্পতরু নিজে।
দিকে দিকে শাখা তার করে অভিযান,
ও যেন শুষিয়া নেবে আকাশের যত বায়ু প্রাণ।
আকাশ ঢেকেছে তার পাখা
কামনার সবুজ বলাকা!

প্রেম সত্য, প্রেম-পাত্র বহু-আগণন,
তাই-চাই, বুকে পাই, তবু কেন কেঁদে ওঠে মন।
মদ সত্য, পাত্র সত্য নয়!
যে-পাত্রে ঢালিয়া খাও সেই নেশা হয়!
চির-সহচরী!
এতদিনে পরিচয় পেনু, মরি মরি!
আমারি প্রেমের মাঝে রয়েছ গোপন,
বৃথা আমি খুঁজে মরি’ জন্মে জন্মে করিনু রোদন।
প্রতি রূপে, অপরূপা, ডাক তুমি,
চিনেছি তোমায়,
যাহারে বাসিব ভালো-সে-ই তুমি,
ধরা দেবে তায়!
প্রেম এক, প্রেমিকা সে বহু,
বহু পাত্রে ঢেলে পি’ব সেই প্রেম -
সে শরাব লোহু।
তোমারে করিব পান, অ-নামিকা, শত কামনায়,
ভৃঙ্গারে, গোলাসে কভু, কভু পেয়ালায়!

সমাপ্ত

Friday, June 18, 2010

মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী

কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম
মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী
দেব খোঁপায় তারার ফুল।
কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির,
চৈতী চাঁদের দুল।

কন্ঠে তোমার পরাবো বালিকা,
হংস-সারির দুলানো মালিকা।
বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব,
মেঘ রঙ এলো চুল।

জ্যোছনার সাথে চন্দন দিয়ে
মাখাব তোমার গায়,
রামধনু হতে লাল রঙ ছানি
আলতা পরাবো পায়।

আমার গানের সাত সুর দিয়া,
তোমার বাসর রচিব প্রিয়া।
তোমারে ঘেরিয়া গাহিবে আমার,
কবিতার বুলবুল।।

সমাপ্ত

Tuesday, March 23, 2010

২৮. যদি কখনও জানতে পারি

লেখার সময়ঃ ০২-১২-২০০১, রবিবার, দুপুর ০৩.৩০ মিঃ

যদি কখনও জানতে পারি
তুমি ঐ কষ্টের মহাসাগর,
ঝাঁপ দেব তবুও সেই গর্ভে
সুখের কিনারা খুঁজে না পাই-
দেখব খুঁজে, তোমার দুঃখের গভীরতার সীমা।

যদি কখনও জানতে পারি
তুমি একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড,
হাত দেব তবুও সেই পিণ্ডে
স্পর্শ করার সুখ অনুভব করতে না পারি-
দেখব, তোমার ক্রোধের কত তেজ
আমাকে পোড়াতে পারো কিনা।

যদি কখনও জানতে পারি
তুমি ঐ আকাশের তারা,
তাকিয়ে রবো আমি অপলক দৃষ্টিতে
আর মুখ দিয়ে নয়, অন্তর দিয়ে
তোমার সাথে চুপি-চুপি কথা বলে যাব-
দেখব, তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও নাকি।

যদি কখনও জানতে পারি
তুমি সন্ধ্যা-সাঁঝের বেলা উড়ে যাওয়া
নীড় হারা কোন পাখী,
ডাক দেব আমি এ হৃদয়ের
সমস্ত ভালবাসা-সিক্ত বানী
আর দু’চোখের অশ্রু বিসর্জন দিয়ে
স্ব-করুন সুরে, তোমার পানে চেয়ে-
দেখব, তুমি তা প্রত্যাখ্যান করে
উড়ে চলে যাও নাকি।

যদি কখনও জানতে পারি
তুমি ঐ পাহাড়ি ঝর্না,
লাফ দেবো তার চূড়া থেকে-
দেখব, তুমি আমার মত দুঃখী
নাকি পাহাড়ের মত নিষ্ঠুর,
আর তোমার চোখের জলের সাথে
ভেসে যাব আমি কতদূর।

যদি কখনও জানতে পারি
তুমি বাস্তবতা বলে কিছু নও
স্বপ্ন, শুধুই স্বপ্ন
প্রকৃতির কাছে হার মেনে নেব
এ বুকভরা সবটুকু ব্যথা মুখে এনে
ক্ষমা চেয়ে নেব-
তারপর, হারিয়ে যাব ঐ মহা-দিগন্তে
যেখানে একদিন সবাই হারিয়ে যাই
দূর হতে সে বহুদূর।।

সমাপ্ত


Monday, March 22, 2010

৩২. মনে বড় ইচ্ছে হয়

লেখার সময়ঃ ০৯-১২-২০০১, রবিবার, রাত ১১.০০ মিঃ

তোমাকে হাসতে দেখলে, মনে বড় ইচ্ছে হয়-
চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পরীদের ধরে
তোমার সামনে নিয়ে আসি,
যাতে করে, তারা তোমার হাসির ছন্দে
নৃত্য করার আনন্দ খুঁজে পাই।

তোমাকে কাঁদতে দেখলে, মনে বড় ইচ্ছে হয়-
ঐ আকাশ হতে সূর্যটাকে ধরে এনে
তোমার চোখের সম্মুখে রেখে দিই,
যাতে করে, তোমার চোখের জল দেখে
আমায় দুঃখ পোহাতে না হয়।

তোমার দুঃখ দেখলে, মনে বড় ইচ্ছে হয়-
এই ধরণীর বুকের বায়ুপ্রবাহ ধরে
তোমার মনের ভিতর পাঠিয়ে দিই,
যাতে করে সে, তোমার সব দুঃখ নিয়ে
অনেক দূর পেরিয়ে যায়।

তোমার উদারতা দেখলে, মনে বড় ইচ্ছে হয়-
মাথার উপরে উঠা চন্দ্রটিকে ধরে
তোমার আদর্শে শিক্ষা দিই,
যাতে করে সে, তোমার গুনে লজ্জা পেয়ে
লুকিয়ে পরে মেঘের আড়ালে।

তুমি লজ্জা পেলে, মনে বড় ইচ্ছে হয়-
ঐ-দিগন্তে দাঁড়িয়ে থাকা মেঘগুলো ধরে এনে
তোমার মুখটা ঢেকে দিই,
যাতে করে, কোনদিন কারো কাছে
তোমায় ছোট হতে না হয়।

তুমি আমায় ভালবাসলে, মনে বড় ইচ্ছে হয়-
প্রকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলি
আমি ধন্য,
যাতে করে সে, তোমাকে হারানোর ব্যথা
অনুভব করতে পারে।।

সমাপ্ত


Saturday, March 20, 2010

৩০. ভয় হয়

লেখার সময়ঃ ০৮-১২-২০০১, শনিবার, সকাল ০৯.৩০ মিঃ

তোমাকে গোলাপ ভেবে স্পর্শ করতে ভয় হয়
যদি তমার কাটার আঘাত
এ হৃদয়ে এসে ফুটে বসে,
তখন, তুমি হয়তবা চলে যাবে বহুদূরে
আমায় ছেড়ে, আর আমি
ক্ষত-বিক্ষত হৃদয় নিয়ে
পড়ে রবো তোমার আশে।

তোমাকে শীতের সকালে কচু-পাতার উপর
শিশির হয়ে পড়ে থাকতে দেখেও
সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে ভয় হয়,
যদি তুমি গড়িয়ে পড়
এই হৃদয়ের গহীন থেকে।

তোমার ভাবনাগুলো দেখতে ভয় হয়
সজীব ঘাসের পে-বলতায়,
যদি কখনো আরাম করতে গিয়ে
গা এলিয়ে শুয়ে পরি
আর তুমি ভুল বোঝ আমায়
বাঁচব কি করে সে ব্যথায়।

তোমার মনটাকে পাথর ভাবতে ভয় হয়
যদি কখনও আঘাত কর
ছলনা কর, মিথ্যা ভালবেসে,
হারিয়ে ফেলি ভালবাসার অধিকার
দাড়াতে না পারি সুখে-দু;খে
সান্ত্বনা অভিমানে তোমার পাশে।

তোমার দুঃখকে সাগর ভাবতে ভয় হয়
যদি তুমি হারিয়ে যাও তাতে,
আর আমি খুঁজে না পাই
নিঃসঙ্গ একাকী হয়ে যাই
কে দেবে সান্ত্বনা আমায়
একথা কি তোমাকেও হবে বোঝাতে।

তোমার ভালবাসাকে আকাশ ভাবতে ভয় হয়
যদি প্রকৃতির মত নিষ্ঠুর হয়ে কখনও
এমনে সাজানো আশা-আকাক্ষা
ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে যাও,
আবার, কখনও হয়তবা উদার মনে
সবকিছু আমার উপর সঁপে
দুঃখে পাশে এসে দাঁড়াতে চাও-

কিন্তু সেদিন, আমার কাছে
তোমার সাথ দেওয়ার সাধ্য না থাকে,
তুমি যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠো
কোন ভয়ে ভীত হব আমি, জীবনের সেই বাঁকে।।

সমাপ্ত


Tuesday, March 16, 2010

৩৩. দুঃস্বপ্ন

লেখার সময়ঃ ১৬-১২-২০০১, রবিবার, রাত ১১.৩০ মিঃ

কোন একদিন ঘুমের ঘোরে আমি
যেন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
চেয়ে ছিলাম বাইরের ভুবনে, অচেতন মনে।
সামনে আমার সুদীর্ঘ ফুলবাগান
পড়ন্ত সাঁঝের বেলা, বসন্ত ঋতুতে
কোকিলের ডাক শোনার ইচ্ছে ছিল
কিন্তু সব ইচ্ছে কি পূরণ হয়?
কানে এসে বাধে ঝিঁঝিঁ পোকার হাহাকার
বিরক্ত হয়ে উঠে এমন, আর তক্ষনি
বাগানের মাঝে বয়ে যাওয়া মৃদুমন্দ হাওয়া
আমাকে এসে স্পর্শ করে যায়।
সেই স্পর্শে, সবকিছু ভুলে যায়
সামনে ভেসে উঠে এক মায়াবী মুখচ্ছবি।
হঠাৎ টেবিলের উপর চোখ পড়ে
পুরনো ফুলদানিটার দিকে,
কোন একদিন ফুল-পরীদের বেশে বাগান হতে
একটি গোলাপ রেখে তুমি
অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলে ঐ বাগানে।
একদিন বাসি গোলাপের পাপড়িগুলো ঝরে পড়েছে
তবু তুমি ঝরে পড়নি এ হৃদয় থেকে,
বারবার মনে পড়েছে শুধু তোমাকে।
তারপর যেদিন দেখা তোমার সাথে
এই অবুঝ হৃদয়ের হাহাকারে
বাগানে তোমাকে খুঁজতে গিয়ে দেখি,
সারাটা বাগান ভরে আছে ভালবাসার রক্ত গোলাপে
হঠাৎ তুমি সামনে এসে দাঁড়ালে
আর আমি, একটি গোলাপ তুলে
তোমার সামনে ধরতেই, তুমি বললে-

“এই হৃদয়ের সব ভালবাসা নিঃশেষ হয়ে গেছে
বাকী আছে শুধু তোমার হাত থেকে
একটি সাদা গোলাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা”।

আমি নির্বাক, স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে
তবু শুধু তোমার চাওয়া পূরণ করার জন্য
সারাটা বাগানে সাদা গোলাপ খুঁজলাম,
কিন্তু, কথাও পেলাম না খুঁজে।
যা খুঁজে পেলাম তা হল-
কখনও সীমাহীন উত্তপ্ত মরুভূমিতে
আর কখনও গহীন অরণ্যের মধ্যে
যেন আমি একাকী, বেঁচে আছি
দুঃস্বপ্নের মত।।

সমাপ্ত


Friday, March 12, 2010

৭৯. উপমা

লেখার সময়ঃ ২৪-১২-২০০২, বৃহস্পতিবার, রাত ১০.০০ মিঃ

কে তুমি, কি দিব উপমা –

নাম না জানা “অনামিকা” তুমি
আমার অসহায় হৃদয়ে,
“তৃষ্ণা” নামে অমৃত তুমি
দুটি চোখের তৃষ্ণা বিদায়ে।

সাগরের মত মহৎ “সাগরিকা” তুমি
কল্পনার সব স্বপ্নজালে,
“বাসন্তী” নামে সুখ পায়রা তুমি
বসন্ত সৃষ্টি প্রতি তালে।

নীল আকাশের ভিড়ে “নীলাঞ্জনা” তুমি
নীলে আঁকা মনের তুলিতে,
“মাধুরী” নামে চির-সাথী তুমি
মধু-পূর্ণিমা প্রতিটি রাতে।

আবেগের কালো-ঝড় নিয়ে “বৈশাখী” তুমি
মনে চাওয়া-পাওয়া দ্বন্দ্বে,
“নূপুর” নামে মনের ঠিকানা তুমি
মোহিত সুর, নৃত্য আর ছন্দে।

চৈতি চাঁদনী রাতে “চৈতালি” তুমি
সঙ্গী হয়ে মনের নিঃসঙ্গতায়,
“সুন্দরী” নামে কোন হুড়-পরী তুমি
ব্যাকুল মনের অস্থিরতায়।

কল্পনার ছোঁয়ায় “কল্পনা” তুমি
সুখের প্রান্তে দাড়িয়ে,
“অপরূপা” নামে রূপের সমাধি তুমি
আশার দুটি হাত বাড়িয়ে।

কে তুমি, নিঃসঙ্গ অনুভবে জেগে –
কি নাম দেব মনে জমা,
উপমায় আমার মিশে আছো নাকি
সবকিছু ঘিরে থাকা নামটি তোমার “উপমা”।।

সমাপ্ত


Wednesday, March 10, 2010

১৩. The Poetry for Love “RUBY”

লেখার সময়ঃ ২৭-০২-১৯৯৯, শনিবার, রাত ১০.০০ মিঃ

কেন যে প্রথম হয়েছিলো দেখা
বলেছিলাম Hello Ruby,
I never forget you
এ কথাটি জানায় খুবী।

বাঁকা চোখের চাহনি তোমার মুক্তা ঝরা হাসি
তুমি কি আমার মনের দেবী?
তুমি স্বর্গ-হুরী, ভুবন-পুরী, বিশ্ব-সুন্দরী
নাকি অনেকদিন আগে স্বপ্নে দেখা সেই ছোট Baby.

ফুলের মত দেহ তোমার চাঁদের মত রূপ
জানিনা কতটা মাধবী,
তবে কেন তোমার প্রেমের সাগরে দিলাম প্রথম ডুব
নও তো তুমি কোন মায়াবী।

চাঁদ সুন্দর, ফুল সুন্দর, আরও সুন্দর তুমি
জানে তা এ পৃথিবী –
তুমি সাত রাজার ধন, অমূল্য রতন
তোমার পাইনা খুঁজে কোন পদবী।

আজ কি করবে তুমি এ মনের আশা পূরণ
এ মনে ছিল যার অভাবী
দিয়ে আমাকে তোমার মনে ঠাঁই
করবে এ মনের ব্যথা লাঘবী।

জানিনা তোমার মন জয় করতে পারব কিনা
কেননা নয় আমি কোন নবী,
Please, এ মনটাকে দাও নতুন রূপ
তবে, I am very Jubi, Jubi, Jubi.

তোমার চোখে চোখ রেখে হয়েছি পাগল
তোমার সৌন্দর্যে হয়েছি কবি,
তুমিই আমার সকল কাব্যের উৎস
তাই তোমার কাছে করছি প্রেমের দাবী।

তোমার চুলের মেলায় রেখেছি এই মনটাকে
এই বুকের ভিতর শুধু তোমারই ছবি
তাই অন্য কিছু না বলে, বলব একটি কথায়
I Love you, I Love you, I very very Love you Ruby.

The End