Showing posts with label রবীন্দ্র সঙ্গীত. Show all posts
Showing posts with label রবীন্দ্র সঙ্গীত. Show all posts

Sunday, January 2, 2011

জাগরনে যায় বিভাবরী

রবীন্দ্র সঙ্গীত
জাগরনে যায় বিভাবরী
আঁখি হতে ঘুম নিল হরি
কে নিল হরি
মরি মরি ।।

যার লাগি ফিরি একা একা
আঁখি পিপাসিত, নাহি দেখা
তারি বাঁশি ওগো তারি বাঁশি
তারি বাঁশি বাজে হিয়া ভরি
মরি মরি ।।

বানী নাহি তবু কানে কানে
কী যে শুনি
কী যে শুনি তাহা কে বা জানে

এই হিয়া ভরা বেদনাতে
বারি -ছলও ছলও আঁখি পাতে
ছায়া দোলে তারি ছায়া দোলে
তারি ছায়া দোলে
ছায়া দোলে দিবানিশি ধরি মরি মরি ।।

সমাপ্ত

বড় আশা করে এসেছি

রবীন্দ্র সঙ্গীত
বড় আশা করে এসেছি গো
কাছে ডেকে লও
ফিরাইও না জননী।

দিনহীনে কেহ চাহে না
তুমি তারে রাখিবে জানি গো।
আর আমি যে কিছু চাহিনে
চরণও তলে বসে থাকিব,
আর আমি যে কিছু চাহিনে
জননী বলে শুধু ডাকিব ।

তুমি না রাখিলে গৃহ আর পাইব কোথায়
কেঁদে কেঁদে কোথা বেড়াব
ঐ যে হেরী
তমশ ঘন ঘরা
গহন রজনী ।

সমাপ্ত

আজি ঝরো ঝরো মুখরিত বাদল দিনে

রবীন্দ্র সঙ্গীত
আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
জানি নে, জানি নে
কিছুতেই কেন যে মন লাগে না ।।

এই চঞ্চল সজল পবন-বেগে
উদ্ভ্রান্ত মেঘে মন চায়
মন চায় ঐ বলাকার পথখানি নিতে চিনে ।।

মেঘমল্লারে সারা দিনমান
বাজে ঝরনার গান ।

মন হারাবার আজি বেলা
পথ ভুলিবার খেলা
মন চায় …মন চায় …
হৃদয় জড়াতে কারো চির -ঋণে

আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে . . .

জানি নে জানি নে … কিছুতে কেন যে মন লাগে না

সমাপ্ত

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল

রবীন্দ্র সঙ্গীত
বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,
আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান॥
মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে
এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান॥
আজ এনে দিলে, হয়তো দিবে না কাল–
রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল।
এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে তব বিস্মৃতিস্রোতের প্লাবনে
ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে তরণী বহি তব সম্মান॥

সমাপ্ত

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে

রবীন্দ্র সঙ্গীত
আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাইনি তোমায়
দেখতে আমি পাইনি

বাহির পানে চোখ মেলেছি
বাহির পানে
আমার হ্রদয় পানে
চাইনি আমি

আমার সকল ভালোবাসায়
সকল আঘাত, সকল আশায়
তুমি ছিলে আমার কাছে
তুমি ছিলে

আমি তোমার কাছে যাইনি

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে …..

তুমি মোর আনন্দ হয়ে
ছিলে আমার খেলায়
আনন্দে তাই ভুলে ছিলেম
কেটেছে দিন হেলায়
গোপন রহি গভীর প্রানে
আমার দুঃখ সুখের গানে

সুর দিয়েছ তুমি , আমি তোমার গান তো গাই নি

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাইনি , আমি দেখতে আমি পাইনি

সমাপ্ত

আমার সকল দুঃখের প্রদীপ

রবীন্দ্র সঙ্গীত
আমার সকল দুঃখের প্রদীপ
জ্বেলে দিবস
গেলে করব নিবেদন

আমার ব্যথার পুজা হয়নি সমাপন

যখন বেলা শেষের ছায়ায়
পাখিরা যায় আপন কুলায় মাঠে
সন্ধ্যা পুজার ঘন্টা যখন বাজে

তখন আপন শেষই কাজে জালবে
এই জীবন

আমার ব্যথার পুজা হবে সমাপন
আমার সকল দুঃখের প্রদীপ

অনেক দিনের অনেক কথা ব্যকুলতা
বাধা দে দোল ও দোলে

মোদের মাঝে উঠেছে আজ ভোরে
যখন পুজার হোমানলে
উঠবে জলে একে একে তাঁরা

আকাশ স্তলে ছুটবে বাধন হারা

অস্ত রবির ছবির সাথে
মিটবে আয়োজন

আমার ব্যথার পুজা হবে সমাপন
আমার সকল দুঃখের প্রদীপ

জ্বেলে দিবস
গেলে করব নিবেদন

সমাপ্ত

মোর ভাবনারে কি হাওয়ায়

রবীন্দ্র সঙ্গীত
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।
হৃদয় ও গগনে সজলও ঘন
নবীনও মেঘে রসের ও ধারা বরষে
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।
তাহারে দেখি না যে দেখি না
শুধু মনে মনে ক্ষণে ক্ষণে ঐ শোনা যায়
বাজে অলকিত তার চরণে।।
রুনু রুনু রুনু রুনু নূপুর ও ধ্বনি
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।

গোপনও স্বপনে ছাইলও
অপরসও আঁচলেরও নব নীলিমায়
উড়ে যায় বাদলের ও এই বাতাসে
তার ছায়াময় এলো কেশ আকাশে
সে যে মনও মোর দিলো আকুলি
জল ভেজা কেতকীর দূর সুবাসে
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।
হৃদয় ও গগনে সজলও ঘন
নবীনও মেঘে রসের ও ধারা বরষে
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।

সমাপ্ত

ভালবেসে সখি নিভৃতে যতনে

রবীন্দ্র সঙ্গীত
ভালবেসে সখি নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো
তোমার মনেরও মন্দিরে।।

আমারও পরাণে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখো
তোমার চরণ মঞ্জিরে।।

ভরিয়া রাখিও সোহাগে আদরে
আমার মুখর পাতি তোমার প্রাসাদ প্রাঙ্গণে
মনে করে সখি বাঁধিয়া রাখিও
আমার হাতেরও রাখি তোমার কনক কঙ্কনে।।

আমারও লতার একটি মুকুল খুলিয়া তুলিয়া রেখো
তোমার অলক বন্ধনে
আমারও স্মরণ শুভসিন্দুরে একটি বিন্দু এঁকো
তোমার ললাট চন্দনে
আমারও মনেরও মোহেরও মাধুরি
মাখিয়া রাখিয়া দিও তোমার অঙ্গ সৌরভে
আমারও আকুল জীবন মরণ টুটিয়া লুটিয়া নিও
তোমার অতুল গৌরবে।।

সমাপ্ত

আমি কান পেতে রই

রবীন্দ্র সঙ্গীত
আমি কান পেতে রই।
ও আমার আপন হৃদয়গহন দ্বারে বারে বারে
কোন্‌ গোপনবাসীর কান্নাহাসির
গোপন কথা শুনিবারে বারে বারে

ভ্রমর সেথা হয় বিবাগি
নিভৃত নীল পদ্ম লাগি রে।

কোন্‌ রাতের পাখি গায় একাকী
সঙ্গীবিহীন অন্ধকারে বারে বারে।।

কে সে মোর কেই বা জানে
কিছু তার দেখি আভা
কিছু পাই অনুমানে
কিছু তার বুঝি না বা।

মাঝে মাঝে তার বারতা
আমার ভাষায় পায় কি কথা রে
ও সে আমায় জানি পাঠায় বাণী
গানের তানে লুকিয়ে তারে বারে বারে।।

সমাপ্ত

তোমার খোলা হাওয়া

রবীন্দ্র সঙ্গীত
তোমার খোলা হাওয়া… লাগিয়ে পালে
টুকরো করে কাছি , আমি ডুবতে রাজি আছি
আমি ডুবতে রাজি আছি ।
তোমার খোলা হাওয়… লাগিয়ে পালে
তোমার খোলা হাওয়া ।
সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায় তারি পিছে গো… ।।
রেখ না আর বেধোনা আর,
কুলের কাছাকাছি আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি।
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
তোমার খোলা হাওয়া
মাঝির লাগি আছি জাগি সকল রাত্রি বেলা
ঢেউ গুলো আমায় নিয়ে করে কেবল খেলা ।
মাঝির লাগি আছি জাগি সকল রাত্রি বেলা
ঢেউ গুলো আমায় নিয়ে করে কেবল খেলা ।
ঝড়কে আমি করবো মিতে, ডোরব না তার ভ্রুকুটিতে
দাও ছেড়ে দাও ওগো আমি তুফান পেলে বাচি। আমি ডুবতে রাজি আছি ,
আমি ডুবতে রাজি আছি।
তোমার খোলা হাওয়া… লাগিয়ে পালে।
তোমার খোলা হাওয়া।
টুকরো করে কাছি , আমি ডুবতে রাজি আছি
আমি ডুবতে রাজি আছি ।
তোমার খোলা হাওয়া… লাগিয়ে পালে।
তোমার খোলা হাওয়া ।

সমাপ্ত

আমার খেলা যখন ছিল

রবীন্দ্র সঙ্গীত
আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে
তখন কে তুমি তা কে জানত
তখন ছিল না ভয় , ছিল না লাজ মনে
জীবন বহি যেত অশান্ত
খেলা যখন ছিল তোমার সনে

তুমি ভোরের বেলা ডাক দিয়েছ কত
যেনো আমার আপন সখার মত …….. (২বার)
হেঁসে তোমার সাথে
ফিরেছিলেম ছুটে সেদিন
কত না মন বনান্ত
খেলা যখন ছিল তোমার সনে

ওগো সেদিন তুমি গাইতে যেসব গান
কোন ও অর্থ তাহার কে জানত
শুধু সঙ্গে তারই গাইত আমার প্রান
সদা নাচত হৃদয় অশান্ত ……(২বার)

হঠাৎ খেলার শেষে আজ কি দেখি ছবি
স্তব্দ আকাশ নিরব শশী রবী…..(২বার)

তোমার চরন পানে নয়ন করি নত
ঘুমুন তাড়িয়ে আছে একান্ত

খেলা যখন ছিল তোমার সনে
তখন কে তুমি তা কে জানত
তখন ছিল না ভয় , ছিল না লাজ মনে
জীবন বহি যেত অশান্ত
খেলা যখন ছিল তোমার সনে ।

সমাপ্ত

আমার ও পরান ও যাহা চায়

রবীন্দ্র সঙ্গীত
আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই , তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তুমি সুখ ও যদি নাহি পাও
যাও সুখের ও সন্ধানে যাও …(২ বার)

আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয় ও মাঝে
আর ও কিছু নাহি চায় গো ও

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

আমি তোমার ও বিরহে
রহিব বিলীন ও
তোমাতে করিব বাস
দীর্ঘ দিবস ও , দীর্ঘ রজনি
দীর্ঘ বরস ও মাস … (২ বার)

যদি আর ও কারে ভালবাসো
যদি আর ও ফিরে নাহি আসো … (২ বার)
তবে তুমি যাহা চাও
তাই যেন ও পাও
আমি যত ও দুঃখ পাই গো

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

সমাপ্ত

একটুকু ছোঁয়া লাগে

রবীন্দ্র সঙ্গীত
একটুকু ছোঁয়া লাগে
একটুকু কথা শুনি
তাই দিয়ে মনে মনে
রচি মম ফাল্গুনি ।।

একটুকু ছোঁয়া লাগে একটুকু কথা শুনি।

কিছু পলাশের নেশা
কিছু বা চাঁপায় মেশা।।
তাই দিয়ে সুরে সুরে
রঙে রসে জাল বুনি।।
রচি মম ফাল্গুনি।

একটুকু ছোঁয়া লাগে
একটুকু কথা শুনি।

যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে
চকিত মনের কোণে স্বপনের ছবি আঁকে ।।
যেটুকু যায়রে দূরে
ভাবনা কাঁপায় সুরে।।
তাই নিয়ে যায় বেলা
নূপুরের তাল গুনি ।।
রচি মম ফাল্গুনি।

একটুকু ছোঁয়া লাগে
একটুকু কথা শুনি
তাই দিয়ে মনে মনে
রচি মম ফাল্গুনি ।।

সমাপ্ত

ডাকব না ডাকব না

রবীন্দ্র সঙ্গীত
ডাকব না ডাকব না
এমন করে বাইরে থেকে
ডাকব না
পারি যদি – অন্তরে তার ডাক পাঠাব
আনব ডেকে
না না না ডাকব না ডাকব না
এমন করে বাইরে থেকে

দেবার ব্যথা বাজে আমার বুকের তলে
নেবার মানুষ জানিনে তো কোথায় চলে ।।
এ দেওয়া নেওয়ার মিলন আমার ঘটাবে কে
না না না ডাকব না ডাকব না
এমন করে বাইরে থেকে ডাকব না

মিলবে নাকি মোর বেদনা তার বেদনাতে
গঙ্গা ধারা মিশবে নাকি কালো যমুনাতে ।।

আপনি কি সুর উঠল বেজে
আপনা হতে এসেছে যে ।।
গেল যখন আশার বচন গেছে রেখে

না না না
ডাকব না ডাকব না
এমন করে বাইরে থেকে ডাকব না

পারি যদি – অন্তরে তার ডাক পাঠাব
আনব ডেকে
না না না ডাকব না ডাকব না
এমন করে বাইরে থেকে

সমাপ্ত

বধু কোন আলো লাগলো চোখে

রবীন্দ্র সঙ্গীত
বধু কোন আলো লাগলো চোখে ।।
বুঝি দীপ্তি রূপে ছিলে সুর্যলোকে

ছিল মন তোমারই প্রতীক্ষা করি
যুগে যুগে দিন রাত্রি ধরি
ছিল মর্ম বেদনা ঘন অন্ধকারে
জনম জনম গেল বিরহ শোকে

বধু কোন আলো লাগলো চোখে ।।

অস্ফুট মঞ্জরি কুঞ্জ বনে
সংগীত শুন্য বিষন্ন মনে ।।
সংগী রিক্ত চীর দুঃখ রাতি
পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতে
সুন্দর হে সুন্দর হে
বর মাল্যকখানি তব আন বহে
তুমি আন বহে

অবগুন্ঠনে ছায়া ঘুচায়ে দিয়ে
হের লজ্জিত স্মিত মুখ শুভ আলোকে

বধু কোন আলো লাগলো চোখে ।।

সমাপ্ত

পুরানো সেই দিনের কথা

রবীন্দ্র সঙ্গীত
পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা,
সে কি ভোলা যায়।।

আয় আর একটিবার আয় রে সখা
প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব
প্রাণ জুড়াবে তায়।

মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়।

হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়
আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়।।

সমাপ্ত

আমার সকল দুখের প্রদীপ

রবীন্দ্র সঙ্গীত
আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করব নিবেদন -
আমার ব্যথার পূজা হয় নি সমাপন ।।

যখন বেলা-শেষের ছায়ায় পাখিরা যায় আপন কুলায়-মাঝে,
সন্ধ্যাপূজার ঘণ্টা যখন বাজে।।
তখন আপন শেষ শিখাটি জ্বালবে এ জীবন -
আমার ব্যথার পূজা হবে সমাপন ।
আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করব নিবেদন

অনেক দিনের অনেক কথা, ব্যাকুলতা, বাঁধা বেদন-ডোরে,
মনের মাঝে উঠেছে আজ ভ’রে ।।
যখন পূজার হোমানলে উঠবে জ্বলে একে একে তারা,
আকাশ-পানে ছুটবে বাঁধন-হারা ।।
অস্তরবির ছবির সাথে মিলবে আয়োজন
আমার ব্যথার পূজা হবে সমাপন।

আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করব নিবেদন
আমার ব্যথার পূজা হয় নি সমাপন ।
আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করব নিবেদন ।

সমাপ্ত

চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে

রবীন্দ্র সঙ্গীত
চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।
অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে।।
ধরায় যখন দাও না ধরা
হৃদয় তখন তোমায় ভরা ।।
এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহি রে।।
চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।

তোমায় নিয়ে খেলেছিলেম খেলার ঘরেতে
খেলার পুতুল ভেঙে গেছে প্রলয় ঝড়েতে ।।
থাক তবে সেই কেবল খেলা,
হোক-না এখন প্রাণের মেলা ।।
তারের বীণা ভাঙল, হৃদয়-বীণায় গাহি রে।
চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।
অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে।

সমাপ্ত

সখী, ভাবনা কাহারে বলে

রবীন্দ্র সঙ্গীত
সখী, ভাবনা কাহারে বলে। সখী, যাতনা কাহারে বলে ।
তোমরা যে বলো দিবস-রজনী ‘ভালোবাসা’ ‘ভালোবাসা’—
সখী, ভালোবাসা কারে কয় ! সে কি কেবলই যাতনাময় ।
সে কি কেবলই চোখের জল ? সে কি কেবলই দুখের শ্বাস ?
লোকে তবে করে কী সুখেরই তরে এমন দুখের আশ ।
আমার চোখে তো সকলই শোভন,
সকলই নবীন, সকলই বিমল, সুনীল আকাশ, শ্যামল কানন,
বিশদ জোছনা, কুসুম কোমল— সকলই আমার মতো ।
তারা কেবলই হাসে, কেবলই গায়, হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়—
না জানে বেদন, না জানে রোদন, না জানে সাধের যাতনা যত ।
ফুল সে হাসিতে হাসিতে ঝরে, জোছনা হাসিয়া মিলায়ে যায়,
হাসিতে হাসিতে আলোক সাগরে আকাশের তারা তেয়াগে কায় ।
আমার মতন সুখী কে আছে। আয় সখী, আয় আমার কাছে—
সুখী হৃদয়ের সুখের গান শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ ।
প্রতিদিন যদি কাঁদিবি কেবল একদিন নয় হাসিবি তোরা—
একিদন নয় বিষাদ ভুলিয়া সকলে মিলিয়া গাহিব মোরা ।।

সমাপ্ত

মোর বীনা ওঠে কোন সূরে বাজি

রবীন্দ্র সঙ্গীত
মোর বীনা ওঠে কোন সূরে বাজি
কোন নব চঞ্চল ছন্দে ।।
মম অন্তর কম্পিত আজি
নিখিলের হৃদয় স্পন্দে

আসে কোন তরুণ অশান্ত,
উড়ে বসনাঞ্চল প্রান্ত,
আলোকের নৃত্যে বনান্ত
মুখরিত অধীর আনন্দে।

অম্বর প্রাংগন মাঝে
নিঃস্বর মঞ্জীর গুঞ্জে।
অশ্রুত সেই তালে বাজে
করতালি পল্লব পুঞ্জে ।।
কার পদ পরশন-আশা
তৃনে তৃনে আর্পিল ভাষা ।।
সমীরণ বন্ধনহারা
উন্মন কোন বনগন্ধে ।

সমাপ্ত