Showing posts with label ধর্মীয় কবিতা. Show all posts
Showing posts with label ধর্মীয় কবিতা. Show all posts

Wednesday, November 10, 2010

প্রার্থনা

কবিঃ গোলাম মোস্তফা
অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি
বিচার দিনের স্বামী।
যত গুণগান হে চির মহান
তোমারি অন্তর্যামী।

দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া
তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী।

সরল সঠিক পূণ্য পন্থা
মোদের দাও গো বলি,
চালাও সেপথে-যেপথে তোমার
প্রিয়জন গেছে চলি।

যে-পথে তোমার চির-অভিশাপ
যে-পথে ভ্রান্তি, চির-পরিতাপ
হে মহাচালক,মোদের কখনও
করো না সে পথগামী।

সমাপ্ত

Thursday, November 4, 2010

আযান

কবিঃ কায়কোবাদ
কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর,
বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!

আমি তো পাগল হয়ে সে মধুর তানে,
কি যে এক আকর্ষণে,
ছুটে যাই মুগ্ধমনে
কি নিশীথে, কি দিবসে মসজিদের পানে।

হৃদয়ের তারে তারে,
প্রাণের শোণিত-ধারে,
কি যে এক ঢেউ উঠে ভক্তির তুফানে-
কত সুধা আছে সেই মধুর আযানে।

নদী ও পাখির গানে তারই প্রতিধ্বনি।
ভ্রমরের গুণ-গানে
সেই সুর আসে কানে
কি এক আবেশে মুগ্ধ নিখিল ধরণী।

ভূধরে, সাগরে জলে
নির্ঝরণী কলকলে,
আমি যেন শুনি সেই আযানের ধ্বনি।

আহা যবে সেই সুর সুমধু স্বরে,
ভাসে দূরে সায়াহ্নের নিথর অম্বরে,
প্রাণ করে আনচান,
কি মধুর সে আযান,
তারি প্রতিধ্বনি শুনি আত্মার ভিতরে।

নীরব নিঝুম ধরা,
বিশ্বে যেন সবই মরা,
এতটুকু শব্দ যবে নাহি কোন স্থানে,

মুয়াযযিন উচ্চৈঃস্বরে
দাঁড়ায়ে মিনার 'পরে
কি সুধা ছড়িয়ে দেয় উষার আযানে!
জাগাইতে মোহমুদ্ধ মানব সন্তানে।

আহা কি মধুর ওই আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর
বাজিল কি সমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।

সমাপ্ত

Tuesday, June 15, 2010

কুরবানী

কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
দুর্বল! ভীরু ! চুপ রহো, ওহো খামখা ক্ষুব্ধ মন!
ধ্বনি উঠে রণি' দূর বাণীর, -
আজিকার এ খুন কোরবানীর!
দুম্বা-শির রুম্-বাসীর
শহীদের শির সেরা আজি!-রহমান কি রুদ্র নন?
ব্যাস! চুপ খামোশ রোদন!
আজ শোর ওঠে জোর "খুন দে, জান দে, শির দে বৎস" শোন!
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
খন্জর মারো গদ্র্দানেই,
পন্জরে আজি দরদ নেই,
মর্দানী'ই পর্দা নেই,
ডরতা নেই আজ খুন্-খারাবীতে রক্ত-লুব্ধ-মন!
খুনে খেলবো খুন-মাতন!
দুনো উনমাদনাতে সত্য মুক্তি আনতে যুঝবো রণ।
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
চ'ড়েছে খুন আজ খুনিয়ারার
মুসলিমে সারা দুনিয়াটার!
'জুলফেকার' খুলবে তার
দু'ধারী ধার শেরে-খোদার, রক্তে-পূত-বদন!
খুনে আজকে রুধবো মন
ওরে শক্তি-হস্তে মুক্তি, শক্তি রক্তে সুপ্ত শোন্।
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
এ তো নহে লহু তরবারের
ঘাতক জালিম জোরবারের
কোরবানের জোরজানের
খুন এ যে, এতে গোদ্র্দ ঢের রে, এ ত্যাগে 'বুদ্ধ' মন!
এতে মা রাখে পুত্র পণ!
তাই জননী হাজেরা বেটারে পরা'লো বলির পূত বসন!
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
এই দিনই 'মিনা'-ময়দানে
পুত্র-স্নেহের গর্দানে
ছুড়ি হেনে 'খুন ক্ষরিয়ে নে'
রেখেছে আব্বা ইবরাহীম সে আপনা রুদ্র পণ!
ছি ছি! কেঁপোনা ক্ষুদ্র মন!
আজ জল্লাদ নয়, প্রহ্লাদ-সম মোল্লা খুন-বদন!
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
দ্যাখ্ কেঁপেছে 'আরশ' আসমানে
মন-খুনী কি রে রাশ মানে?
ত্রাস প্রাণে? তবে রাস্তা নে!
প্রলয় বিষাণ 'কিয়ামতে' তবে বাজবে কোন্ বোধন?
সে কি সৃষ্টি-সংশোধন?
ওরে তাথিয়া তাথিয়া নাচে ভৈরব বাজে ডম্বরু শোন্!
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
মুসলিম-রণ-ডঙ্কা সে,
খুন দেখে করে শঙ্কা কে?
টঙ্কারে অসি ঝঙ্কারে,
ওরে হুঙ্কারে, ভাঙি গড়া ভীম কারা, ল'ড়বো রণ-মরণ!
ঢালে বাজবে ঝন্-ঝনন্!
ওরে সত্য মুক্তি স্বাধীনতা দেবে এই সে খুন-মোচন!
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন!
জোর চাই, আর যাচনা নয়,
কোরবানী-দিন আজ না ওই?
কাজ না আজিকে জান্ মাল দিয়ে মুক্তির উদ্র্ধরণ?
বল্-"যুঝবো জান ভি পণ!"
ঐ খুনের খুঁটিতে কল্যাণ-কেতু, লক্ষ্য ঐ তোরণ,
আজ আল্লার নামে জান্ কোরবানে ঈদের পূত বোধন।
ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন।।

সমাপ্ত

Monday, June 14, 2010

মুনাজাত

কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম
আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হতে
বাঁচাও প্রভু উদার।
হে প্রভু! শেখাও-নীচতার চেয়ে
নীচ পাপ নাহি আর।
যদি শতেক জন্ম পাপে হই পাপী,
যুগ-যুগান্ত নরকেও যাপি,
জানি জানি প্রভু, তারও আছে ক্ষমা-
ক্ষমা নাহি নীচতার।।
ক্ষুদ্র করো না হে প্রভু আমার
হৃদয়ের পরিসর,
যেন সম ঠাঁই পায়
শত্রু-মিত্র-পর।
নিন্দা না করি ঈর্ষায় কারো
অন্যের সুখে সুখ পাই আরো,
কাঁদি তারি তরে অশেষ দুঃখী
ক্ষুদ্র আত্মা তার।।

সমাপ্ত