অমরত্মের প্রত্যাশা নেই নেই কোন দাবি দাওয়া
এই নস্সর জীবনের মানে শুধু তোমাকে চাওয়া
মুহূর্ত যায় জন্মের মতো অন্ধ জাতিস্মর
গত জন্মের ভুলে যাওয়া স্মৃতি বিস্মৃত অক্ষর
ছেড়া তাল পাতা পুঁথির পাতায় নিঃস্বাস ফেলে হাওয়া
এই নস্সর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই চাওয়া
কাল-কেউটের ফনায় নাচছে লখিন্দরের স্মৃতি
বেহুলা কখনো বিধবা হয় না এটা বাংলার রীতি
ভেসে যায় ভেলা এবেলা ওবেলা একই সব দেহ নিয়ে
আগেও মরেছি আবার মরবো প্রেমের দিব্যি দিয়ে
জন্মেছি আমি আগেও অনেক মরেছি তোমারই কোলে
মুক্তি পাইনি শুধু তোমাকে আবার দেখবো বলে
বার বার ফিরে এসেছি আমরা এই পৃথিবীর টানে
কখনো গাঙড় কখনো কো পাই কপোতাক্ষর গানে
গাঙড় হয়েছে কখনো কাবেড়ি কখনো বা মিসিসিপি
কখনো রাইন কখনো কঙ্গো নদীদের স্বরলিপি
স্বরলিপি আমি আগেও লিখিনি এখনও লিখিনা তাই
মুখে মুখে ফেরা মানুষের গানে শুধু তোমাকেই চাই
তোমাকে চেয়েছি ছিলাম যখন অনেক জন্ম আগে
তথা গততার নিঃস্বংগতা দিলেম অস্তরাগে
তারই করুনায় ভিখারিনি তুমি হয়েছিলে একা একা
আমিও কাঙাল হলাম আরেক কাঙালের পেয়ে দেখা
নতজানু হয়ে ছিলাম তখন এখনো যেমন আছি
মাধুকরী হও নয়নমোহিনী স্বপ্নের কাছাকাছি
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ব্যারিকেড কর প্রেমের পদ্যটাই
বিদ্রোহ আর চুমুর দিব্যি শুধু তোমাকেই চাই
আমার স্বপ্নে বিভোর হয়েই জন্মেছ বহুবার
আমি ছিলাম তোমার কামনা বিদ্রোহ চিৎকার
দুঃখ পেয়েছ যতবার জেনো আমায় পেয়েছ তুমি
আমি তোমার পুরুষ আমি তোমার জন্মভূমি
যতবার তুমি জননী হয়েছ ততবার আমি পিতা
কতো সন্তান জ্বালালো প্রেয়সি তোমার আমার চিতা
বার বার আসি আমরা দুজন বার বার ফিরে যাই
আবার আসবো আবার বলবো শুধু তোমাকে চাই-
বার বার আসি আমরা দুজন বার বার ফিরে যাই
আবার আসবো আবার বলবো শুধু তোমাকে চাই।
সমাপ্ত
Thursday, February 3, 2011
জাতিস্মর
বাঁশুরিয়া
বাঁশুরিয়া বাজাও বাঁশী দেখি না তোমায়
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়-
বাঁশুরিয়া বাজাও বাঁশী দেখি না তোমায়
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়।
এ শহরে এসছো তুমি কবে কোন রাজ্য থেকে-
এ শহরে এসছো তুমি কবে কোন রাজ্য থেকে
তোমাদের দেশে বুঝি সব মানুষই বাঁশী শেখে
আমাদের স্কুল কলেজে শেখে লোকে লেখা পড়া-
আমাদের স্কুল কলেজে শেখে লোকে লেখা পড়া
প্রাণে গান নাই মিছে তাই রবি ঠাকুর মূর্তি গড়া
তোমার ঐ দেহাতি গান,
তোমার ঐ দেহাতি গান, দোলে যখন বাঁশির মুখে
আমাদের নকল ভণ্ড কৃষ্টি চালায় করাত বুকে
বুকে আর গলায় আমার শহর কোলকাতায়
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়
বাঁশুরিয়া বাজাও বাঁশী দেখি না তোমায়
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়।
ঠেলা ভ্যান চালাও,
ঠেলা ভ্যান চালাও, তুমি কিম্বা ভাড়া গাড়ির ক্লিনার
কবছরে একবার যাও তোমার দেশের নদীর কিনার
ফাঁক পেলে বাঁশী বাজাও,
ফাঁক পেলে বাঁশী বাজাও, ফেলে আসা ঘরের ডাকে
দেশে গিয়ে এমন সুরে হয়তো ডাকো কোলকাতাকে
ফিরে এসে উদাম খাটো,
ফিরে এসে উদাম খাটো, গায়ে গতরে ব্যস্ত হাতে
মজুরিতে ভাগ বসাচ্ছে কারা তোমার কোলকাতাতে
তাদেরই গাইয়ে আমি সাজানো জলসায়
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়
বাঁশুরিয়া, বাঁশুরিয়া বাজাও বাঁশী দেখি না তোমায়
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়-
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়-
গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়।
সমাপ্ত
পেটকাটি চাঁদিয়াল
পেটকাটি চাঁদিয়াল…
পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক, মাটিতে অবজ্ঞা-
পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক, মাটিতে অবজ্ঞা।
বয়স বারো কি তেরো,
বয়স বারো কি তেরো, রিকশা চালাচ্ছে
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক ছেলেটাকে ডাকছে।
বয়স বারো কি তেরো, বড়জোর চোদ্দ
রিক্শা চালাতে শিখে নিয়েছে সে সদ্য।
ছেলেটার মন নেই প্যাডেলে বা চাক্কায়
ঐ তো লেগেছে প্যাঁচ চাঁদিয়াল বগ্গায়।
শান্ দেওয়া মানজায়, বগ্গা ভো কাট্টা
ছেলেটা চেঁচিয়ে ওঠে “এই নিয়ে আটটা”।
সওয়ার বাবুটি ভাবে, দেরি হয়ে যাচ্ছে
বিচ্ছু ছোঁড়াটা বড় আস্তে চালাচ্ছে।
“ওই ছোঁড়া, আরে ওই ছোঁড়া মলে যা
আট্টা তো তোর কি?”
সওয়ার বাবুটি দেন রেগে মেগে হুমকি।
বাবুর খ্যাঁকানি শুনে সম্বিত্ ফিরে পায়
ছেলেটা যে করে হোক রিক্শা চালিয়ে যায়।
এ কিশোর পারবে কি এই বোঝা টানতে?
এই বাবু কোনো দিন পারবে কি জানতে?
এ কিশোর পারবে কি এই বোঝা টানতে?
এই বাবু কোনো দিন পারবে কি জানতে?
যে ছেলেটা প্রাণপণে রিক্শা চালাচ্ছে
মুক্তির ঘুড়ি তাকে খবর পাঠাচ্ছে।
পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক, মাটিতে অবজ্ঞা।
পেটকাটি চাঁদিয়াল…মোমবাতি বগ্গা
সমাপ্ত
তোমাকে চাই
প্রথমত: আমি তোমাকে চাই
দ্বিতীয়ত: আমি তোমাকে চাই
তৃতীয়ত: আমি তোমাকে চাই
শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই
নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই
রাতভোর হলে আমি তোমাকে চাই
সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই
সন্ধের অবকাশে তোমাকে চাই
বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে চাই
আষাঢ়ের মেঘে আমি তোমাকে চাই
শ্রাবণে শ্রাবণে আমি তোমাকে চাই
অকালবোধনে আমি তোমাকে চাই।
কবেকার কলকাতা শহরের পথে
পুরোনো নতুন মুখ ঘরে ইমারতে
অগুন্তি মানুষের ক্লান্ত মিছিলে
অচেনা ছুটির ছোঁয়া তুমি এনে দিলে
নাগরিক ক্লান্তিতে তোমাকে চাই
এক ফোঁটা শান্তিতে তোমাকে চাই
বহুদূর হেঁটে এসে তোমাকে চাই
এ জীবন ভালোবেসে তোমাকে চাই।
চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে
শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে ওখানে
স্টেশন টার্মিনাস ঘাটে বন্দরে
অচেনা ড্রয়িংরুমে চেনা অন্দরে
বালিশ তোশক কাঁথা পুরোনো চাদরে
ঠান্ডা শীতের রাতে লেপের আদরে
কড়িকাঠে চৌকাঠে মাদুরে পাপোশে
হাসি রাগ অভিমানে ঝগড়া আপোসে
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই-
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই
এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই
ডাইনে ও বাঁয়ে আমি তোমাকে চাই
দেখা না দেখায় আমি তোমাকে চাই
না-বলা কথায় আমি তোমাকে চাই।
শীর্ষেন্দুর কোন নতুন নভেলে
হঠাৎ পড়তে বসা আবোলতাবোলে
অবোধ্য কবিতায় ঠুংরি খেয়ালে
স্লোগানে স্লোগানে ঢাকা দেয়ালে দেয়ালে
সলিল চৌধুরীর ফেলে আসা গানে
চৌরাশিয়ার বাঁশি মুখরিত প্রাণে
ভুলে যাওয়া হিমাংশু দত্তর সুরে
সেই কবেকার অনুরোধের আসরে
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই-
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই
অনুরোধে মিনতিতে তোমাকে চাই
বেদনার আর্তিতে তোমাকে চাই
দাবীদাওয়া চাহিদায় তোমাকে চাই
লজ্জাদ্বিধায় আমি তোমাকে চাই।
অধিকার বুঝে নেওয়া প্রখর দাবীতে
সারারাত জেগে আঁকা লড়াকু ছবিতে
ছিপছিপে কবিতার ছন্দে ভাষায়
গদ্যের যুক্তিতে বাঁচার আশায়
শ্রেণীহীন সমাজের চির বাসনায়
দিনবদলের খিদে ভরা চেতনায়
দ্বিধাদ্বন্দের দিন ঘোচার স্বপ্নে
সাম্যবাদের গান ঘুমে জাগরণে
বিক্ষোভে বিপ্লবে তোমাকে চাই
ভীষণ অসম্ভবে তোমাকে চাই
শান্তি অশান্তিতে তোমাকে চাই
এই বিভ্রান্তিতে তোমাকে চাই
প্রথমত: আমি তোমাকে চাই
দ্বিতীয়ত: আমি তোমাকে চাই
তৃতীয়ত: আমি তোমাকে চাই
শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই।
সমাপ্ত
আমার দুবাহু প্রসারিত করে
লা লা লা-লা লা লা-লা লা লা-লা লা লা
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের কোন অঞ্চলে-
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের কোন অঞ্চলে
পাক খেয়ে নেচে অবশেষে এই শ্বেতাঙ্গ দিন শেষ হলে
শান্ত, শীতল সন্ধ্যে,
শান্ত, শীতল সন্ধ্যে, তন্বী গাছের ছায়াই ভালো
রাত্রি নামবে যখন, আহা, আমার মতো কালো, কালো, কালো৷
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের কোন অঞ্চলে
লা লা লা-লা লা লা-লা লা লা-লা লা লা
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের মুখে মুখে-
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের মুখে মুখে
নাচ ঘুরপাক দুরন্ত এই দিন গেলে শেষে চুকে
শান্ত, ধূসর সন্ধ্যে,
শান্ত, ধূসর সন্ধ্যে, আহা তন্বী সে এক গাছ
রাত্রি নেমেছে আমার মতো, কালোর চলেছে নাচ, নাচ৷
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের কোন অঞ্চলে
লা লা লা-লা লা লা-লা লা লা-লা লা লা
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের মুখে মুখে-
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের মুখে মুখে
নাচ ঘুরপাক দুরন্ত এই দিন গেলে শেষে চুকে
শান্ত, ধূসর সন্ধ্যে,
শান্ত, ধূসর সন্ধ্যে, আহা তন্বী সে এক গাছ
রাত্রি নেমেছে আমার মতো, কালোর চলেছে নাচ, নাচ৷
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের কোন অঞ্চলে-
আমার দুবাহু প্রসারিত করে সূর্যের কোন অঞ্চলে
পাক খেয়ে নেচে অবশেষে এই শ্বেতাঙ্গ দিন শেষ হলে
শান্ত, শীতল সন্ধ্যে
শান্ত, শীতল সন্ধ্যে তন্বী গাছের ছায়াই ভালো
রাত্রি নামবে যখন, আহা, আমার মতন কালো, কালো, কালো৷
সমাপ্ত
Monday, January 31, 2011
মাসের প্রথম দিনটা
মাসের প্রথম দিনটা এই ধর্মতলার মোড়ে
লালচে আলো কালচে হয়ে যাওয়া অশোকা বারে-
মাসের প্রথম দিনটা এই ধর্মতলার মোড়ে
লালচে আলো কালচে হয়ে যাওয়া অশোকা বারে,
তিনটে বড় হুইস্কি, পেপসিতে নেড়ে চেড়ে
চেনা চেনা সেই চোখ, চীনে খাবার।
এই মাইনে পাওয়ার দিনটা, গড়ের মাঠটা ঘুরে
ফিরবো আজকে আমি, একা ট্যাকসিতে চড়ে।
ছেলেটা আমার থাকবে জেগে, আসবে যে তেড়ে ফুঁড়ে,
পকেটে আমার পিস্তল খেলনা।
আজ অন্ধকার এই গলির গন্ধ নাকে আসবে না
বড় রাস্তার মাস্তানরাও কাছে ঘেঁষবে না
ট্যকসিটাকে সোজা নিয়ে, দোরগোড়াতে লাগিয়ে দিয়ে
সব হয়ে যাবে সিনেমা।
চিকেনটা ভাই প্যাক করে দাও, বাড়ী নিয়ে চলে যাই
যাবার আগে ওয়ান-ফর-দ্য-রোড হবে নাকি ভাই?
আবার তো সেই তিরিশটা দিন, হাঁড়িকাঠে জবাই
ছোটোখাটো হয়ে থাকার যন্ত্রণা।
নামটা শুনেছি পড়িনি আমি, জীবনানন্দ দাশ
লাশকাটা এই শহরে, আমি জীবন্ত লাশ।
নামটা শুনেছি পড়িনি আমি, জীবনানন্দ দাশ
লাশকাটা এই শহরে, আমি জীবন্ত লাশ।
দশটা পাঁচটা মনটা আমার করে শুধু হাঁস ফাঁস
মাসের প্রথম দিনটার অপেক্ষায়।
চেপে চেপে রেখে মান অভিমান, টিপে টিপে খরচা
চারটা চৌকো মধ্যবিত্ত বাঁচার প্রচেষ্টা,
পাল্টে যাবেনা কোনোদিন এই দুয়ে দুয়ে চার নামতা আমার
ক্যাবলাকান্ত কেরানীর কবিতা।
মিসেস আমার গুন গুন করে গাইছে আজকে গান
ভুলে গেছে সে ছেঁড়া ব্লাউজের লজ্জা অপমান,
সত্যি হবেনা জেনেও করছে, বন্ধক রাখা গয়নাগুলোর
উদ্ধার করে আনার নানান প্ল্যান।
একটা দিনের জন্যেও সব উল্টোপাল্টা হোক
চুলোয় যাকগে আপোস অভাব লাভ লোকসান ক্ষোভ।
একটা রাতের জন্যেও সেই হারানো সুর বাজুক
এই রাতটা তোমার আমার।
বেঁচে থাকি যদি তিরিশটী দিন আবার আসবো ফিরে
নিয়ন আলো করে এলোমেলো, ধর্মতলার মোড়ে
হৃদয়ের সব যন্ত্রণা আমি দেব ঊজার করে
মাসের প্রথম দিনটায় আবার।
রাপ্পা রাপ্পা রাবারা রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা হু
রাপ্পা রাপ্পা রাবারা রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা হু
রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা রাবারা রাপ্পা হু
রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা রাবারা রাপ্পা হু
রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা রাবারা রাপ্পা হু
রাপ্পা রাপ্পা রাবারা রাপ্পা রাপ্পা রাপ্পা হু
সমাপ্ত
আমি বৃষ্টি দেখেছি
আমি বৃষ্টি দেখেছি, বৃষ্টির ছবি একেছি
আমি রোদে পুড়ে-ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি
আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার-খেলা থামেনি
শুধু তুমি চলে যাবে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
চারটে দেয়াল মানেই নয়তো ঘর
নিজের ঘরেও অনেক মানুষ পর
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর।
আমি অনেক ভেঙ্গেচুরেও-আবার শুরু করেছি
আবার পাওয়ার আশায়-ঘুরে মরেছি
আমি অনেক হেরে গিয়েও-হারটা স্বীকার করিনি
শুধু তোমায় হারাবো, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
হারিয়ে গেছে তরতাজা সময়
হারিয়ে যেতে করেনি আমার ভয়
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর।
আমি অনেক স্রোতে বয়ে গিয়ে
অনেক ঠকেছি
আমি আগুন থেকে ঠেকে শিখে
অনেক পুড়েছি
আমি অনেক কষ্টে অনেক কিছুই
দিতে শিখেছি
শুধু তোমায় বিদায় দিতে হবে
স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি, আমি বৃষ্টি দেখেছি
আমি বৃষ্টি দেখেছি, আমি বৃষ্টি দেখেছি।
সমাপ্ত
এটা কি ২৪৪১১৩৯
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো
এখন আর কেউ আটকাতে পারবেনা
সম্বন্ধটা এই বার তুমি ভেস্তে দিতে পারো
মা-কে বলে দাও বিয়ে তুমি করছো না-
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো
এখন আর কেউ আটকাতে পারবেনা
সম্বন্ধটা এই বার তুমি ভেস্তে দিতে পারো
মা-কে বলে দাও বিয়ে তুমি করছো না
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা সত্যি
আর মাত্র কয়েকটা মাস ব্যাস
স্টার্টিংয়েই ওরা ১১০০ দেবে তিন মাস পরে কনফার্ম
চুপ করে কেন বেলা কিছু বলছো না
এটা কি ২৪৪১১৩৯
বেলা বোস তুমি পারছো কি শুনতে
১০-১২ বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি
দেবো না কিছুতেই আর হারাতে
হ্যালো ২৪৪১১৩৯
দিন না ডেকে বেলাকে একটিবার
মিটারে যাচ্ছে বেড়ে এই পাবলিক টেলিফোনে
জরু্রি খুব জরুরি দরকার
স্বপ্ন এবার হয়ে যাবে বেলা সত্যি
এতোদিন ধরে এতো অপেক্ষা
রাস্তার কতো সস্তা হোটেলে
বদ্ধ ক্যাবিনে বন্দী দুজনে, রুদ্ধশ্বাস কতো প্রতীক্ষা-
স্বপ্ন এবার হয়ে যাবে বেলা সত্যি
এতোদিন ধরে এতো অপেক্ষা
রাস্তার কতো সস্তা হোটেলে
বদ্ধ ক্যাবিনে বন্দী দুজনে, রুদ্ধশ্বাস কতো প্রতীক্ষা-
আর কিছু দিন তারপর বেলা মুক্তি
কসবার ঐ নীল দেয়ালের ঘর
সাদা-কালো এই জঞ্জালে ভরা মিথ্যে কথার শহরে
তোমার আমার লাল-নীল সংসার
এটা কি ২৪৪১১৩৯
বেলা বোস তুমি পারছো কি শুনতে
১০-১২ বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি
দেবো না কিছুতেই আর হারাতে
হ্যালো ২৪৪১১৩৯
দিন না ডেকে বেলাকে একটিবার
মিটারে যাচ্ছে বেড়ে এই পাবলিক টেলিফোনে
জরু্রি খুব জরুরি দরকার
চুপ করে কেন একি বেলা তুমি কাঁদছো
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি সত্যি
কান্নাকাটির হল্লাহাটির সময় গেছে পেরিয়ে
হ্যালো তুমি শুনতে পাচ্ছো কি-
চুপ করে কেন একি বেলা তুমি কাঁদছো
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি সত্যি
কান্নাকাটির হল্লাহাটির সময় গেছে পেরিয়ে
হ্যালো তুমি শুনতে পাচ্ছো কি
এটা কি ২৪৪১১৩৯
বেলা বোস তুমি পারছো কি শুনতে
১০-১২ বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি
দেবো না কিছুতেই আর হারাতে
হ্যালো ২৪৪১১৩৯
দিন না ডেকে বেলাকে একটিবার
মিটারে যাচ্ছে বেড়ে এই পাবলিক টেলিফোনে
জরু্রি খুব জরুরি দরকার
হ্যালো ২৪৪১১৩৯, ২৪৪১১৩৯ ধুর ছাই
২৪৪১১৩৯, হ্যালো ২৪৪১১৩৯
হ্যালো ২৪৪১১৩৯, ২৪৪১১৩৯…
সমাপ্ত
মিসেস মুখার্জী
সাবধান মিসেস মুখার্জী একটু ভেবে দেখবেন
মেয়েটি যে আপনার হচ্ছে বড় সে তো নয় ফাউন্টেন পেন
আগলে আগলে রেখে আঁচলের তলায় ধরে রাখা যায় না সময়
চোখে চোখে রাখা মানেই কিন্তু মনে ধরে রাখা নয়
সাবধান মিসেস মুখার্জী তাকিয়ে দেখুন একবার
বলতে কি চায় চোখ দুটো তার চাপা অহংকার
জামার মাপটা তার জানেন ভালোই মনের খবর কি রাখেন
সাবধান মিসেস মুখার্জী সাবধান মিসেস সেন
বড় হয়ে যাচ্ছে-মন
বড় বড় স্বপ্ন সে দেখতে শিখছে এখখখন
পৃথিবীটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে
মানবে কি করে সে বলুন
আপনার ছোট খাটো শাসন
সময়ের মার নেই বলছি যে তাই এখনো সময় আছে
যতই তাকে আগলে রাখুন নাচ আর গানের ক্লাসে
অন্ধ যে নয় তার চোখ দুটো তাই বন্ধ যে নয় তার মন
সেই মনের সাথে কত হাজার কথা হয় তার যখন তখন
ষোল বছরের এই মনটার ভেতরে রোজ রোজ কত কি ঘটে
কত কত স্বপ্নকে জন্ম সে দেয় কত স্বপ্ন কে দেয় পুড়িয়ে
একদিন মনের এই শ্মশানটা যদি দাউদাউ করে জ্বলে উঠে
সাবধান মিসেস মুখার্জী সাবধান মিসেস সেন
বড় হয়ে যাচ্ছে-মন
বড় বড় স্বপ্ন সে দেখতে শিখছে এখখখন
পৃথিবীটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে
মানবে কি করে সে বলুন
আপনার ছোট খাটো শাসন
ন’ নটা মাস ধরে পেটের ভেতর নিয়ে হাজার যন্ত্রনা
একটু একটু করে একদিন আপনি হয়ে গেলেন মা
একটু একটু করে যৌবন আপনার কোথায় গেলো হারিয়ে
স্বপ্ন দেখার সেই মনটাও কেমন হয়ে গেলো ঘোলাটে
বদলে গেছে সময়টা নাকি আপনি বদলে গেছেন
ষোল বছরের সেই স্বপ্নগুলো আপনি ভুলে বসেছেন
বলতেই পারেন আমার এই গানের নেই কোন মুন্ডু মানে
তবে সাবধান মিসেস দত্ত সাবধান মিসেস সেন
বড় হয়ে যাচ্ছে-মন
বড় বড় স্বপ্ন সে দেখতে শিখছে এখখখন
পৃথিবীটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে
মানবে কি করে সে বলুন
আপনার ছোট খাটো শাসন-
বড় হয়ে যাচ্ছে-মন
বড় বড় স্বপ্ন সে দেখতে শিখছে এখখখন
পৃথিবীটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে
মানবে কি করে সে বলুন
আপনার ছোট খাটো শাসন।
সমাপ্ত
রঞ্জনা
পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোড়া করে দেবো
বলেছে পাড়ার দাদারা
অন্যপাড়া দিয়ে যাচ্ছি তাই
রঞ্জনা আমি আর আসবো না-
রঞ্জনা আমি আর আসবো না।
ধর্ম আমার আমি নিজে বেছে নেইনি
পদবিতে ছিলো না যে হাত
মসজিদে যেতে হয় তাই জোর করে যাই
বচ্ছরে দু’একবার-
ধর্ম আমার আমি নিজে বেছে নেইনি
পদবিতে ছিলো না যে হাত
মসজিদে যেতে হয় তাই জোর করে যাই
বচ্ছরে দু’একবার।
বাংলায় সত্তর পাই আমি এক্সামে
ভালো লাগে খেতে ভাত মাছ
গাঁজা-সিগারেট আমি কোনটাই ছুঁইনা
পারিনা চড়তে কোন গাছ
চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি
দাদা আমি এখনো যে ইশকুলে পড়ি
কব্জির জোরে আমি পারবো না
পারবো না হতে আমি রোমিও
তাই দুপ্পুর বেলাতে ঘুমিও
আসতে হবে না আর বারান্দায়
রঞ্জনা আমি আর আসবো না-
রঞ্জনা আমি আর আসবো না।
বুঝবো কি করে আমি তোমার ঐ মেঝ দাদা
শুধু যে তোমার দাদা নয়
আরো কত দাদাগিরি কব্জির কারিগরি
করে তার দিন কেটে যায়-
বুঝবো কি করে আমি তোমার ঐ মেঝ দাদা
শুধু যে তোমার দাদা নয়
আরো কত দাদাগিরি কব্জির কারিগরি
করে তার দিন কেটে যায়।।
তাও যদি বলতাম হিন্দুর ছেলে আমি
নিলু বিলু কিম্বা নিতাই
মিথ্যে কথা আমি বলতে যে পারিনা
ভ্যাবা ভ্যাবা ভ্যাবাচ্যাকা খাই
চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি
দাদা আমি এখনো যে ইশকুলে পড়ি
কব্জির জোরে আমি পারবো না
পারবো না হতে আমি রোমিও
তাই দুপ্পুর বেলাতে ঘুমিও
আসতে হবে না আর বারান্দায়
রঞ্জনা আমি আর আসবো না-
রঞ্জনা আমি আর আসবো না।
সত্যিকারের প্রেম জানিনাতো কি সেটা
যাচ্ছে জমে হোম টাস্ক
লাগছে না ভালো আর মেট্রো-চ্যানেলটা
কান্না পাচ্ছে সারা রাত-
সত্যিকারের প্রেম জানিনাতো কি সেটা
যাচ্ছে জমে হোম টাস্ক
লাগছে না ভালো আর মেট্রো-চ্যানেলটা
কান্না পাচ্ছে সারা রাত
হিন্দু কি জাপানী জানি না তো তুমি কি
জানে ঐ দাদাদের গ্যাং
সাইকেলটা আমি ছেড়ে দিতে রাজি আছি
পারবো না ছাড়তে এই ঠ্যাং
চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি
দাদা আমি এখনো যে ইশকুলে পড়ি
কব্জির জোরে আমি পারবো না
পারবো না হতে আমি রোমিও
তাই দুপ্পুর বেলাতে ঘুমিও
আসতে হবে না আর বারান্দায়
রঞ্জনা আমি আর আসবো না-
রঞ্জনা আমি আর আসবো না।
পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোড়া করে দেবো
বলেছে পাড়ার দাদারা
অন্যপাড়া দিয়ে যাচ্ছি তাই
রঞ্জনা আমি আর আসবো না-
রঞ্জনা আমি আর আসবো না-
রঞ্জনা আমি আর আসবো না-
রঞ্জনা আমি আর আসবো না।
সমাপ্ত
Monday, January 17, 2011
তিরিশ বছর
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি-
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।।
স্বাধীনতা কি বৈশাখী মেলা, পান্তা ইলিশ খাওয়া?
স্বাধীনতা কি বটমূলে বসে বৈশাখী গান গাওয়া?
স্বাধীনতা কি বুদ্ধিজীবির বক্তৃতা সেমিনার?
স্বাধীনতা কি শহীদ বেড়িতে পুষ্পের সমাহার?
স্বাধীনতা কি গল্প নাটক উপন্যাস আর কবিতা?
স্বাধীনতা কি আজ বন্দী আনুষ্ঠানিকতা?
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।।
স্বাধীনতা কি ঢাকা শহরের আকাশচুম্বী বাড়ি?
স্বাধীনতা কি ফুটপাতে শোয়া গৃহহীন নর-নারী?
স্বাধীনতা কি হোটেলে হোটেলে গ্র্যান্ড ফ্যাশন শো?
স্বাধীনতা কি দুখিনী নারীর জড়-জীর্ণ বস্ত্র?
স্বাধীনতা কি গজিয়ে ওঠা অভিজাত পান্থশালা?
স্বাধীনতা কি অন্যের খোঁজে কিশোরী প্রমোদবালা?
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।।
স্বাধীনতা কি নিরীহ লোকের অকারণে প্রাণদন্ড?
স্বাধীনতা কি পানির ট্যাঙ্কে গলিত লাশের গন্ধ?
স্বাধীনতা কি হরতাল ডেকে জীবন করা স্তব্ধ?
স্বাধীনতা কি ক্ষমতা হরণে চলে বন্দুক যুদ্ধ?
স্বাধীনতা কি সন্ত্রাসী হাতে মারণাস্ত্রের গর্জন?
স্বাধীনতা কি অর্থের লোভে বিবেক বিসর্জন?
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।।
আজ নেই বর্গী, নেই ইংরেজ, নেই পাকিস্তানী হানাদার,
আজো তবু কেন আমার মনে শূণ্যতা আর হাহাকার?
আজো তবু কি লাখো শহীদের রক্ত যাবে বৃথা?
আজো তবু কি ভুলতে বসেছি স্বাধীনতার ইতিকথা?
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি-
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।।
সমাপ্ত
Thursday, January 13, 2011
ভয়!
ডাইনে বাঁয়ে, গঞ্জে গাঁয়ে
পুরানো অথবা নতুন অধ্যায়
ডাইনে বাঁয়ে, গঞ্জে গাঁয়ে
পুরানো অথবা নতুন অধ্যায়
বিশৃংখলা যতই বাড়ুক
গণতন্ত্র রাষ্ট্র যন্ত্র দুচোখ বুজে রয়
ভ’হয়! ভ’হয়! ভ’হয়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
ডাইনে বাঁয়ে, গঞ্জে গাঁয়ে
পুরানো অথবা নতুন অধ্যায়
ডাইনে বাঁয়ে, গঞ্জে গাঁয়ে
পুরানো অথবা নতুন অধ্যায়
বিশৃংখলা যতই বাড়ুক
গণতন্ত্র রাষ্ট্র যন্ত্র দুচোখ বুজে রয়
ভ’হয়! ভ’হয়! ভ’হয়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পড়াশুনা আর ভাবনা চিন্তা
নাচছে শিকেয়–তা ধিন্ ধিন্ তা -
পড়াশুনা আর ভাবনা চিন্তা
নাচছে শিকেয়–তা ধিন্ ধিন্ তা
বিরাশি প্রহর সংকীর্তন
মাইকে প্রবল চিত্কার-
বিরাশি প্রহর সংকীর্তন
মাইকে প্রবল চিত্কার
রাষ্ট্র হেসে বলেন-
এ যে গণতান্ত্রিক অধিকার
শব্দ দূষণ প্রতিকার
সে তো বিজ্ঞাপনের কথা
ভবিষ্তের ভাবনায় নেই কারোর মাথাব্যথা।
আসলে, হাজারটা লোক
আসলে, হাজারটা লোক, হোতাদের ভোট
রয়েছে ধর্ম ময়
ভ’হয়! ভ’হয়! ভ’হয়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
শহরের এক কোণে বেড়ে চলে
অন্ধকারের চক্র
সমীজ-বিরোধী, মাস্তান, ফোড়ে,
একতা ওদের অস্ত্র
ওদেরই তো দেখি ভোটের সময়
নানান রঙেতে রাঙানো জামায়-
ওদেরই তো দেখি ভোটের সময়
নানান রঙেতে রাঙানো জামায়
রাষ্ট্র তখন প্রাণপনে ভোলে-ওদের পরিচয়।
তাই ভয়! ভয়! ভহ’য়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
ডাইনে বাঁয়ে, গঞ্জে গাঁয়ে
পুরানো অথবা নতুন অধ্যায়
ডাইনে বাঁয়ে, গঞ্জে গাঁয়ে
পুরানো অথবা নতুন অধ্যায়
বিশৃংখলা যতই বাড়ুক
গণতন্ত্র রাষ্ট্র যন্ত্র দুচোখ বুজে রয়
ভ’হয়! ভ’হয়! ভ’হয়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
পাছে ভোট নষ্ট হয়।
সমাপ্ত
সারে যাঁহা সে আচ্ছা
আমার পরিচয়–বেকার যুবক আমি, সম্বল একটাই দৈন্য
ডিগ্রির ভাঁড়ারেতে তবু কিছু মাল আছে, পকেটের ভাঁড়ারটা শুন্য।
যেদিকেই তাকাই না, দেখি জন-অরণ্য, সে অরণ্যেই দেখি মানুষের আপণ্য
বধুকে পোড়ানো হয়, অধর্ম জয়ী হয়, মানুষের রক্তে দিনলিপি সই হয় ।
হাস্পাতালের বেডে টিবি রোগীর সাথে খেলা করে শুয়োরের বাচ্চা
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে–সারে যাঁহা সে আচ্ছা।
লাঞ্ছনা গঞ্জনা মাখা অভিযোজনে রপ্ত করেছি নিজেকে
অসত্ হবার বহু-বহু প্রচেষ্টায়, ব্যর্থ করেছি নিজেকে।
চাকরির সন্ধানে সুখতলা খয়ে যায়, গঙ্গার জল তবু একই ভাবে বয়ে যায়,
ঘুষ, ঘুষ, ঘুষের এক ঘুস-ঘুসে জ্বরে, গোটা দেশ চিত্কার করে ডাকে ‘ডাক্তার’
ডাক্তার উড়ে আসে ঋণের অষুধ নিয়ে, গঙ্গার পুজো হয় গঙ্গার জল দিয়ে।
বছরের অন্তে, বাজেটের যন্ত্রে পিশে দেই জীবনটা, গচ্চা-
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে–সারে যাঁহা সে আচ্ছা।
প্রার্থির যোগ্যতা অথবা অভিজ্ঞতা, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের দীনতা
কোনো কিছুই কোনো কিছুকেই ঢাকে না। আর-
‘লোক’ অথবা ‘বিধান’ যে দিকেই তাকান, রাজনিতিজ্ঞ হতে যোগ্যতা লাগে না।
হাজার প্রতিশ্রুতি বাতাসেই বয়ে যায়, ‘চলছে না, চলবে না’, তবু তাই হয়ে যায়।
কত শত শয়তান, হতে চায় ভগবান, আল্লা না বড় রাম, এই চলে অবিরাম।
খুনোখুনি লাঠালাঠি, অবিরাম অনুক্ষণ, এদিকে তোমার আমার পেটেতে ছুঁচোর ডন।
সমাজ বিরোধি কিছু, করে বলে মাথা উঁচু, সমাজবাদের পথই সাচ্চা-
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে–সারে যাঁহা সে আচ্ছা।
সমাপ্ত
সরকারি কর্মচারী
বারোটায় অফিস আসি, দুটোয় টিফিন
তিনটেয় যদি দেখি সিগন্যাল গ্রীন-
বারোটায় অফিস আসি, দুটোয় টিফিন
তিনটেয় যদি দেখি সিগন্যাল গ্রীন
চটিটা গলিয়ে পায়ে, নিপাট নির্দ্বিধায়
চেয়ারটা কোনোমতে ছাড়ি
কোনো কথা না বাড়িয়ে
ধীরে ধীরে পা বড়িয়ে
চারটেয় চলে আসি বাড়ি।
আমি সরকারি কর্মচারী-
আমি সরকারি কর্মচারী।
আমি সরকারি কর্মচারী-
আমি, আমি সরকারি কর্মচারী।
আমি অফিসেতে বসে বসে আনন্দলোক পড়ি
টাডা থেকে ছাড়া পেল সঞ্জয়
আর টেবিলেতে ফাইল এসে জমে জমে
দূর থেকে মনে হয় হিমালয়।
হপ্তায় হপ্তায় আন্দোলনের খেলা
টি-এ, ডি-এ বাড়ানোর জন্য
ফি মাসে মাসে যদি এক দিনও কাজ করি
অফিসটা হয়ে যায় ধন্য।
কারো ফাইল পাস্ করে নির্লজ্জের মতো
হাতখানা পেতে দিতে পারি
আমি সরকারি উউ…
আমি সরকারি কর্মচারী।
মা, মাগো, জগত্ জননী, অন্নদায়িনী মা আমার রক্ষা কোরো-
ঘুশ আমার ধর্ম ঘুশ আমার কর্ম
ঘুশ নিতে কি শংসয়,
প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ
ঘুশ খাওয়া কখনই নয়।
তাই কারো ফইল পাস্ করে নির্লজ্জের মত
হাত খানা পেতে দিতে পারি।
আমি সরকারি কর্মচারী
আমি সরকারি কর্মচারী
আমি সরকারি কর্মচারী-
আমি, আমি সরকারি কর্মচারী।
বারোটায় অফিস আসি, দুটোয় টিফিন
তিনটেয় যদি দেখি সিগন্যাল গ্রীন-
বারোটায় অফিস আসি, দুটোয় টিফিন
তিনটেয় যদি দেখি সিগন্যাল গ্রীন
চটিটা গলিয়ে পায়ে, নিপাট নির্দ্বিধায়
চেয়ারটা কোনোমতে ছাড়ি,
কোনো কথা না বাড়িয়ে
ধীরে ধীরে পা বড়িয়ে
চারটেয় চলে আসি বাড়ি।
আমি সরকারি কর্মচারী-
আমি সরকারি কর্মচারী
আমি সরকারি কর্মচারী-
আমি, আমি সরকারি কর্মচারী।
আমি সরকারি কর্মচারী-
মাগো-আমি সরকারি
আমি সরকারি কর্মচারী-
আমি, আমি সরকারি কর্মচারী।
সমাপ্ত
নীলাঞ্জনা-১
লাল ফিতে সাদা মোজা সু’স্কুল ইউনিফর্ম
ন’টার সাইরেন সংকেত সিলেবাসে মনোযোগ কম
পড়া ফেলে এক ছুট ছুটে রাস্তার মোড়ে, দেখে
সাইরেন মিস করা দোকানীটা দেয় ঘড়িতে দম
এরপর একরাশ কালো কালো ধোঁয়া
স্কুল বাসে করে তার দ্রুত চলে যাওয়া
এরপর বিষন্ন দিন বাজেনা মনোবীণ
অবসাদে ঘিরে থাকা সে দীর্ঘ দিন
হাজার কবিতা বেকার সবই তা-
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা-
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা।
সন্ধ্যা ঘনাতো যখন পাড়ায় পাড়ায়
রক থাকতো ভরে কিছু বখাটে ছোড়ায়
হিন্দি গানের কলি সদ্য শেখা গালাগালি
একঘেয়ে হয়ে যেত সময় সময়
তখন উদাস মন ভোলে মনরঞ্জন
দাম দিয়ে যন্ত্রনা কিনতে চায়
তখন নীলাঞ্জনা প্রেমিকের কল্পনা
ওমনের গভীরতা জানতে চায়
যখন খোলা চুলে হয়তো মনের ভুলে
তাকাতো সে অবহেলে দু’চোখ মেলে
হাজার কবিতা বেকার সবই তা-
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা-
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা।
অংকের খাতা ভরা থাকতো আঁকায়
তার ছবি তার নাম পাতায় পাতায়
হাজার অনুষ্ঠান প্রভাত ফেরীর গান
মন দিন গুনে এই দিনের আশায়
রাত জেগে নাটকের মহরায় চঞ্চল
মন শুধু সে ক্ষনের প্রতিক্ষায়
রাত্রির আঙ্গিনায় যদি খোলা জানালায়
একবার একবার যদি সে দাড়ায়
বোঝেনি অবুঝ মন নীলাঞ্জনা তখন
নিজেতে ছিলো মগণ এ প্রানপণ
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা-
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা-
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা-
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা।
সমাপ্ত
বৃদ্ধাশ্রম
ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার-
ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার।
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী
সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি।
ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম!
আমার ব্যবহারের সেই আলমারি আর আয়না
ওসব নাকি বেশ পুরনো, ফ্ল্যাটে রাখা যায় না-
আমার ব্যবহারের সেই আলমারি আর আয়না
ওসব নাকি বেশ পুরনো, ফ্ল্যাটে রাখা যায় না।
ওর বাবার ছবি, ঘড়ি-ছড়ি, বিদেয় হলো তাড়াতাড়ি
ছেড়ে দিলো, কাকে খেলো, পোষা বুড়ো ময়না।
স্বামী-স্ত্রী আর আ্যালসেশিয়ান-জায়গা বড়ই কম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম!
নিজে হাতে ভাত খেতে পারতো নাকো খোকা
বলতাম আমি না থাকলে রে কি করবি বোকা?
ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদতো খোকা আমার কথা শুনে-
খোকা বোধ হয় আর কাঁদে না, নেই বুঝি আর মনে।
ছোট্টবেলায় স্বপ্ন দেখে উঠতো খোকা কেঁদে
দু’হাত দিয়ে বুকের কাছে রেখে দিতাম বেঁধে
দু’হাত আজো খুঁজে, ভুলে যায় যে একদম-
আমার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম!
খোকারও হয়েছে ছেলে, দু’বছর হলো
আর তো মাত্র বয়স পঁচিশ, ঠাকুর মুখ তোলো।
একশো বছর বাঁচতে চাই-এখন আমার ষাট
পঁচিশ বছর পরে খোকার হবে ঊনষাট।
আশ্রমের এই ঘরটা ছোট, জায়গা অনেক বেশি-
খোকা-আমি, দু’জনেতে থাকবো পাশাপাশি।
সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণ রকম
মুখোমুখি আমি, খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!
মুখোমুখি আমি, খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!
মুখোমুখি আমি, খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!
সমাপ্ত
এই বেশ ভাল আছি
এই বেশ ভাল আছি। এই বেশ ভাল আছি।
এই বেশ ভাল আছি, কর্ম কাজ নেই, গাড়ি ঘোড়া কিছু নেই,
অফিস কাছারি নেই, হাজিরা কামাই নেই,
শব্দ বা পরিবেশ দূষণ বালাই নেই,
সময় দেই না বলে-তেলে বেগুণ জ্বলে-গিন্নীর রাগ নেই,
টেলিফোনে ডাক নেই, শহরেতে কারফিউ, লোকজন কেউ নেই,
এক-চার-চার ধারা, ফুটপাথে থাকে যারা, কেউ কোথ্ থাও নেই,
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই–
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে-
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে,
ঐ ধর্মের বাঘ হেসে, আবার উঠোনে এসে,
আশ্রয় চেয়ে যায় মানুষেরই কাছে।
তাই, ভয় আছে-দু নয়নে ভয় আছে,
মনে সংশয় আছে। দু নয়নে ভয় আছে।
ভেঙে গেলে জোড়া যায় মন্দির মসজিদ,
ভাঙা কাঁচ, ভাঙা মন যায় না,
রাম আছে, শ্যাম আছে, কোরাণী সেলাম আছে,
রক্তলোলুপ কিছু হয় না।
ভেঙে গেলে জোড়া যায় মন্দির মসজিদ,
ভাঙা কাঁচ, ভাঙা মন যায় না,
রাম আছে, শ্যাম আছে, কোরাণী সেলাম আছে,
রক্তলোলুপ কিছু হয় না।
এদেশ টা ফাঁকা আছে, বিদেশের টাকা আছে,
ধর্ম না গ্রাস করে আমাদের পাছে।
তাই, ভয় আছে-
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে-
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
ঐ ধর্মের বাঘ হেসে, আবার উঠোনে এসে,
আশ্রয় চেয়ে যায় মানুষেরই কাছে।
তাই, ভয় আছে-দু নয়নে ভয় আছে,
মনে সংশয় আছে। দু নয়নে ভয় আছে।
এই বেশ ভাল আছি। এই বেশ ভাল আছি।
এই বেশ ভাল আছি, ভাবার সময় আছে, তবুও ভাবনা নেই,
পার্কে তে ঘোরা নেই, সিনেমায় যাওয়া নেই,
উঠতি যুবকদের যাতনার সীমা নেই,
শিহরণ আনে প্রেমে এমন বাতাস নেই,
যুবতীর কটাক্ষ, চীরে দেয় এ বক্ষ, হায়রে এমন দিনে
সেই অবকাশ নেই, চাল নেই, ডাল নেই, পয়সার দাম নেই,
তবুও টিভির স্ক্রীনে খেলার বিরাম নেই।
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই–
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
সমাপ্ত
চোর
ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে
চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ
ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি করে
গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস-
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে —
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে,
চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ।
ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি ক’রে,
গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে —
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
প্রতিদিন চুরি যায় মূল্যবোধের সোনা
আমাদের স্বপ্ন, আমাদের চেতনা-
প্রতিদিন চুরি যায় মূল্যবোধের সোনা
আমাদের স্বপ্ন, আমাদের চেতনা।
কিছুটা মূল্য পেয়ে ভাবি বুঝি শোধ-বোধ
ন্যায় নীতি ত্যাগ করে, মানুষ আপোস করে
চুরি গেছে আমাদের সব প্রতিরোধ।
এর পর কোনো রাতে, চাকরটা অজ্ঞাতে
সামান্য টাকা নিয়ে ধরা প’ড়ে হাতে নাতে-
এর পর কোনো রাতে, চাকরটা অজ্ঞাতে
সামান্য টাকা নিয়ে ধরা প’ড়ে হাতে নাতে-
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে —
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে,
চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ।
ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি ক’রে,
গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে —
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
প্রতিদিন চুরি যায় দিন বদলের আশা
প্রতিদিন চুরি যায় আমাদের ভালবাসা-
প্রতিদিন চুরি যায় দিন বদলের আশা
প্রতিদিন চুরি যায় আমাদের ভালবাসা
জীবনী শক্তি চুরি গিয়ে আসে নিরাশা
সংঘাত্ প্রতিঘাত্ দেয়ালে দেয়ালে আঁকা
তবু চুরি যায় প্রতিবাদের ভাষা।
কখনো বাজারে গেলে, দোকানী কিশোর ছেলে
কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে, ওজনেতে কম দিলে-
কখনো বাজারে গেলে, দোকানী কিশোর ছেলে
কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে, ওজনেতে কম দিলে-
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে—
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে,
চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ।
ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি ক’রে,
গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে —
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
সমাপ্ত
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন-
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন।
জীবন প্রসব করে চলাই জীবন-
জীবন প্রসব করে চলাই জীবন
শুধু যোগ বিয়োগের খেলাই জীবন।
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন-
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন।
শুধু সূর্যের পানে দেখাই জীবন,
জীবনকে ভোগ করে একাই জীবন-
শুধু সূর্যের পানে দেখাই জীবন,
জীবনকে ভোগ করে একাই জীবন
একই কক্ষ্যপথে ঘোরাই জীবন
স্বপনের সমাধি খোড়াই জীবন
মনের গোপন ঘরে-
মনের গোপন ঘরে, যে শাপদ ঘর করে,
তাকেই লালন করে চলাই জীবন।
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন-
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন।
ফুটপাথে বেওয়ারিশ শিশুরা জীবন,
রাম, ইসলাম আর যিশুরা জীবন-
ফুটপাথে বেওয়ারিশ শিশুরা জীবন,
রাম, ইসলাম আর যিশুরা জীবন
অষুধের বিষপান করাই জীবন
চিকিৎসাহীন হয়ে মরাই জীবন।
যে মেয়েটা রোজ রাতে-
যে মেয়েটা রোজ রাতে, বদলায় হাতে হাতে,
তার অভিশাপ নিয়ে চলাই জীবন।
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন-
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন।
প্রতিবাদ প্রতিরোধে নামাই জীবন,
লক্ষ্যে পৌঁছে তবে থামাই জীবন-
প্রতিবাদ প্রতিরোধে নামাই জীবন,
লক্ষ্যে পৌঁছে তবে থামাই জীবন
স্বপ্নের বেচা কেনা করাই জীবন
দেয়ালে ঠেকলে পিঠ লড়াই জীবন,
প্রতিদিন ঘরে ফিরে-
প্রতিদিন ঘরে ফিরে, অনেক হিসেব করে,
‘এ জীবন চাই না’, তা বলাই জীবন।
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন-
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন।
জীবন প্রসব করে চলাই জীবন,
জীবন প্রসব করে চলাই জীবন
শুধু যোগ বিয়োগের খেলাই জীবন।
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন-
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন।
অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন..
সমাপ্ত
অনির্বান–১
অনির্বান আমার বন্ধু, অনির্বানের সাথে যখন আমার দ্বিতীয়বার দেখা হয়েছিলো তখন সময়টা ছিলো বড় অদ্ভুত। আমরা হাইওয়ের উপর দিয়ে অনেকদুরে একটা অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছি, লাল আকাশ, সন্ধ্যে হয়ে আসছে, দু’পাশে ফাঁকা মাঠ। আমরা চা খাবো বলে গাড়িটা দাড় করিয়েছি একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত চায়ের দোকানে। এমন সময় দেখতে পেলাম লাল আকাশকে পেছনে রেখে-একটা ছেলে মাঠ পার হয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো–চিনতে পারছিস? আমি বললাম–না! বললো–ভালো করে দেখ। আমি সেই চুরি যাওয়া আলোতে ওকে চিনলাম, আমার বন্ধু অনির্বান। আমার চোখের সামনে পুরোনো দিনগুলো ছায়াছবির মত ভেসে উঠছে। আমি ওকে প্রশ্ন করলাম–অনির্বান, তুই এখানে!! ও বললো–তাইতো কথা ছিলো বন্ধু, আমাদের তো এখানেই থাকার কথা ছিলো। আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। আমি খুব বোকার মত ওকে প্রশ্ন করলাম– অনির্বান কি করছিস এখন? ও বললো–যা কথা ছিলো বন্ধু, মানুষের মাঝখানেই আছি। আমি আর দাড়িয়ে থাকতে পারছিনা, একটা অপরাধবোধ আমাকে গ্রাস করছে। ও বললো–তোর দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি গাড়িতে গিয়ে বসলাম। ও জানলার কাছে এসে বললো–এখন তো তোর নাম হয়ে গেছে, তুইতো বিখ্যাত হয়ে গেছিস! সুখেই আছিস কি বল! আমার গাড়ি স্টার্ট নিয়ে নিয়েছে, অনির্বান আমার জীবন থেকে মিলিয়ে যাচ্ছে…অনির্বানের শেষ কথা গুলো আজও আমার কানে আলপিনের মত বেঁধে–
সুখেই আছিস…সুখেই আছিস………
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান-
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান
কি সুখে রয়েছি আমি
কি সুখে বেচেছি গান
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান।
সেদিনের মিটিঙের মাইক
সেদিনের কলেজের স্ট্রাইক
সেদিনের মাতাল পদক্ষেপ
বে-দিক সিদ্ধান্তের আক্ষেপ
আজ কেঁদে এই মাপা পদচারন
সেদিনের তালের কাছে ম্লান
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান-
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান।
শ্রমিকের মুক্তির গান
কৃষকের হাতিয়ার শান
শ্রেনীহীন সমাজের স্বপ্ন
ঘৃনার প্রতিপালনেতে যত্ন
আজ তোর ঘামে ভেজে যে পথের ধূলো
হয়তো সেথায় আমার হতো স্থান
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান-
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান।
কি সুখে রয়েছি আমি
কি সুখে বেচেছি গান
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান-
দেখে যা, যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান।
সমাপ্ত